রবিবার
২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে তাকবিরে মুখরিত হবে পুরো পৃথিবী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

জিলহজ মাস শুরু হলেই বদলে যেতে থাকে মুসলিম বিশ্বের পরিবেশ। পবিত্র মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ধ্বনিত হয় তাকবির ও তালবিয়ার সুমধুর আহ্বান— ‘আল্লাহু আকবার’ এবং ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

মসজিদ, ঘরবাড়ি, রাস্তা এমনকি বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও শোনা যায় তাকবিরে তাশরিকের ধ্বনি। এটি শুধু ধর্মীয় উচ্চারণ নয়; বরং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের গভীর বহিঃপ্রকাশ।

আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশে জিলহজের শুরু থেকেই বাড়ি ও জনবহুল এলাকায় তাকবিরের সাউন্ড বাজানো হয়। অন্যদিকে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত তালবিয়া যেন গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় আবদ্ধ করে।

ইসলামে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইয়ামে তাশরিকের পাঁচ দিনে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। আর হজ পালনকারীদের জন্য তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদতের আবহ এবং আল্লাহর স্মরণে জিলহজ মাস মুসলমানদের জীবনে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি।

হজের সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই পাঠ করেছেন। হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনামুখী হাজিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

তালবিয়ার এই ধ্বনি আর তাকবিরের ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মক্কা নগরী, মিনা, আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা।

জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলমানরা তাকবির ও তালবিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করতে থাকেন আল্লাহর বড়ত্ব এবং তার স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার।

তাকবিরে তাশরিক

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

অর্থ: ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’

হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী জিলহজ মাজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। হজে না গেলেও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য এই তাকবির পড়া ওয়াজিব। একাধিকবার পড়া মুস্তাহাব।

তালবিয়া : বান্দার উপস্থিতির ঘোষণা

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ

لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ

اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ

لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,

লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,

ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,

লা শারিকা লাক।

অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।

আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।

আপনার কোনো অংশীদার নেই।’

হাজিগণ উচ্চস্বরে (নারীরা নিচু স্বরে) তালবিয়া পাঠ করেন। বিশেষ করে—

> আরাফাতের ময়দানে

> মিনায়

> মুজদালিফায়

> হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার পথে

> উঁচু স্থানে আরোহন বা নিচে নামার সময়

এমনকি চলাফেরা, বিশ্রাম, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং ফরজ-নফল নামাজের পরও বেশি বেশি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল।

তাকবির ও তালবিয়া শুধু কিছু শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীরতম আত্মসমর্পণের ভাষা। এই ধ্বনি মুসলিম উম্মাহকে মনে করিয়ে দেয়— আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা, তারই ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন পরিচালনা করি।

জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিক ও তালবিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা শুধু একটি আমল নয়, বরং ইমানকে জীবন্ত রাখার এক অপূর্ব উপায়। আসুন, এই পবিত্র সময়গুলোতে আমরা সবাই আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করি, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করি এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত রাখি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন