শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির ইতিহাস: পিতার হাতে পুত্র কুরবানি 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
expand
প্রতীকী ছবি

ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার শিকড় জড়িয়ে আছে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহান কাহিনীর সঙ্গে।

কোরআনে বর্ণিত আছে, আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইবরাহিম (আ.)। পিতা-পুত্র উভয়ের আনুগত্যের পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর আল্লাহ তাদের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানির ব্যবস্থা করেন। এখান থেকেই মুসলমানদের মাঝে কোরবানির রীতি শুরু হয়।

কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মানুষের আন্তরিকতা ও তাকওয়া-ই আসল বিষয়। কোরআনের (সুরা হজ্জ ৩৭) আয়াতে উল্লেখ আছে: আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের মাংস কিংবা রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।

শিক্ষণীয় বার্তা

কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, ত্যাগের মানসিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। নিজের প্রিয় বস্তু থেকে উৎসর্গ করা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ইবাদতের অন্যতম শর্ত। পাশাপাশি সমাজে সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমান সুযোগ সৃষ্টি করার দিকেও কোরবানি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিবছর ঈদুল আজহায় কোরবানি করে ইবরাহিমি ত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে। গরু, ছাগল, উটসহ নির্দিষ্ট পশু কোরবানি করার মাধ্যমে মানুষ শুধু ধর্মীয় দায়িত্বই পালন করে না, বরং মাংস বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র-অসহায় মানুষের মুখেও হাসি ফোটায়।

কোরবানি শুধুমাত্র একটি পশু জবাইয়ের রীতি নয়; বরং এটি ঈমান, আনুগত্য ও মানবিকতার প্রতীক। কোরআন ও সুন্নাহয় এর শিক্ষা হলো— মানুষ যেন নিজের স্বার্থ ভুলে আল্লাহর পথে ও সমাজের কল্যাণে ত্যাগ স্বীকার করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন