

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও রঙিন উৎসব হলো হোলি বা দোল পূর্ণিমা। এই উৎসবের শেকড় পৌরাণিক কাহিনি, কৃষ্ণলীলা, সামাজিক সংস্কার ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
পৌরাণিক সূত্র
দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু তাঁর ভক্ত ও ধর্মপরায়ণ পুত্র প্রহ্লাদকে ঈশ্বরচর্চা থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। নানা কৌশলেও ব্যর্থ হয়ে তিনি বোন হোলিকার সাহায্য নেন। আগুনে অক্ষত থাকার বর পাওয়া হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করেন। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গী হওয়ার শাস্তি হিসেবে হোলিকা দগ্ধ হয়ে নিঃশেষ হন, আর ভক্ত প্রহ্লাদ রক্ষা পান। এই ঘটনাকেই ‘হোলিকা দহন’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
কৃষ্ণ ও দোলের আনন্দ
বসন্তের পূর্ণিমায় কৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধা ও সখীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন বলে লোককথায় প্রচলিত। রাধা-সখীদের সঙ্গে গুলাল ছড়ানো ও রঙে রঙিন হয়ে ওঠার সেই আনন্দই দোলযাত্রার মূল আবেগ হয়ে ওঠে। অনেক বৈষ্ণব বিশ্বাস করেন, এই ফাল্গুনী পূর্ণিমাতেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই বৈষ্ণবরা একে ‘গৌর পূর্ণিমা’ বলেও পালন করে।
আঞ্চলিক রীতি ও সামাজিক তাৎপর্য
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এ উৎসব নানা নামে পরিচিত— বাংলায় দোলযাত্রা, উত্তর ও মধ্যভারতে হোলি, ওড়িশায় দোলোৎসব, গোয়া ও কঙ্কণে শিমাগা, দক্ষিণ ভারতে কামায়ন ইত্যাদি। উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ বা বাংলায় ‘চাঁচর’ নামে বহ্নি-উৎসব পালিত হয়, যেখানে পুরোনো শুকনো ডাল, পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে ফেলা হয়। সামাজিকভাবে এটি পুরোনো-অশুভ দূর করে নতুনের আহ্বান জানানোর প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
শান্তিনিকেতনে এই দোলযাত্রা বসন্তোৎসব নামে জনপ্রিয়, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে রঙের উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গান, নৃত্য ও আবৃত্তি। নজরুলের কবিতা ও গানে হোলির আনন্দ বহুবার এসেছে।
ঐতিহাসিক দলিল
হোলি হিন্দু সভ্যতার বহু প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও জৈমিনি মীমাংসায় এ উৎসবের উল্লেখ আছে। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর শিলালিপি, হর্ষবর্ধনের নাটক রত্নাবলী এবং আল বেরুণীর বর্ণনা থেকেও প্রমাণ মেলে যে হোলি শুধু হিন্দুদের মধ্যে নয়, কখনো কখনো মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরাও এতে অংশ নিতেন।
মন্তব্য করুন
