

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ২৬.২ ট্রিলিয়ন ওয়ন (প্রায় ১৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এর একটি অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবের আওতায় দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত এ বাজেট প্রস্তাবে মূলত তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—উচ্চ তেলের দামের প্রভাব মোকাবিলা, মানুষের জীবনযাত্রা স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্পখাতে ক্ষতি কমিয়ে সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করা। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজেটমন্ত্রী পার্ক হং-কিউন সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে দেশি-বিদেশি অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অর্থনীতির দিকে দ্রুত একটি বড় সংকট এগিয়ে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “উচ্চ তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি ছোট ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।”
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪.৮ ট্রিলিয়ন ওয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে আয়ের নিচের ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা হিসেবে। এ পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ প্রতি ব্যক্তি ১ লাখ থেকে ৬ লাখ ওয়ন পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। কারা কত টাকা পাবেন, তা নির্ধারণ করা হবে আয়স্তর, বসবাসের এলাকা এবং জনসংখ্যা হ্রাসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করেন কি না—এসব বিষয়ের ভিত্তিতে।
সরকার জানিয়েছে, সিউল মহানগর এলাকার বাইরে বসবাসরত নিম্নআয়ের মৌলিক জীবনযাপন সহায়তাপ্রাপ্তরা সর্বোচ্চ ৬ লাখ ওয়ন পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন।
অতিরিক্ত বাজেটের আরেকটি বড় অংশ ৫.১ ট্রিলিয়ন ওয়ন রাখা হয়েছে জ্বালানির মূল্যসীমা কর্মসূচি ও নাফথা সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায়। নাফথা পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্পে বহুল ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।
এর মধ্যে ৮৭.৭ বিলিয়ন ওয়ন ব্যয় করা হবে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়াতে, যেখানে ছয় মাসের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট রিফান্ড রেট সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এটি সম্প্রতি চালু হওয়া পাঁচ দিনের বাধ্যতামূলক যানবাহন রোটেশন ব্যবস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি খাতে যানবাহন রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা শুরু করেছে এবং বেসরকারি খাতকেও স্বেচ্ছায় অংশ নিতে উৎসাহিত করছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ৯.৭ ট্রিলিয়ন ওয়ন, যুব উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সহায়তায় ১.৯ ট্রিলিয়ন ওয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে ৫০০ বিলিয়ন ওয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে ৭০০ বিলিয়ন ওয়ন ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত বাজেট বাস্তবায়নে নতুন সরকারি বন্ড ইস্যু করা হবে না। এর পরিবর্তে ২৫.২ ট্রিলিয়ন ওয়ন কর রাজস্ব এবং ১ ট্রিলিয়ন ওয়ন সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে পার্ক হং-কিউন বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের সময়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতের উল্লম্ফন এবং শেয়ারবাজারের ভালো পারফরম্যান্সের কারণে অতিরিক্ত কর রাজস্ব এসেছে।”
এদিকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় রাজনৈতিক দলই আগামী শুক্রবারের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এ অতিরিক্ত বাজেট বিল পাসে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি।
মন্তব্য করুন