

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের চালু করা মিড ডে মিল কর্মসূচি বাহুবল উপজেলায় চরম অনিয়মের মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দিনে ডিম ও রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কোথাও শুধু ডিম, কোথাও তাও নেই রুটির দেখা মেলেনি অনেক স্কুলেই। এমনকি ভাঙা ও নষ্ট ডিম বিতরণের অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সিদ্ধ ডিম ও রুটি বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের পাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ে সীমিত আকারে শুধু ডিম বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে না দেওয়া হয়েছে রুটি, না পৌঁছেছে ডিম।
এছাড়া কর্মসূচির আওতায় দুধ ও বিস্কুট সরবরাহের কথা থাকলেও তা-ও সব বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা কখনোই রুটি পায়নি এবং মাঝেমধ্যে শুধু বিস্কুট দিয়ে দায়সারা করা হয়, যা পুষ্টি চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
লাকুড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “প্রায় দুই মাস আগে একবার বিস্কুট পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছুই পাইনি।”
বড়গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, “আজকে শুধু একটি ডিম দেওয়া হয়েছে, তাও ছিল ভাঙা ও নষ্ট।”
গোলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা মিড ডে মিলের কোনো সুবিধাই পায়নি, যদিও তাদের নামে বরাদ্দ রয়েছে।”
বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেনা আক্তার জানান, “আজ একজন এসে শুধু ডিম দিয়ে গেছে, অন্য কিছু দেওয়া হয়নি।”
এমন অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সরকারের ভালো উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে ঠিকাদারি অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছি। ডিম-রুটি পাওয়ার কথা ছিল কেন পায়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এমন বড় ধরনের অনিয়মের পরও কার্যকর নজরদারি না থাকায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন