বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রার্থীর, ‘জোর করে’ মনোনয়ন দিচ্ছে এনসিপি

টঙ্গী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও আলী নাসের
expand
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও আলী নাসের

দীর্ঘদিনের নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে যখন আসন সমঝোতার আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাছের সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে গাজীপুর-২ আসন থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের মনোনয়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পেশাগত জীবন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় তিনি নিজেকে আরও যোগ্য করে গড়ে তুলতে চান। গাজীপুর-২ আসনের জন্য আরও যোগ্য প্রার্থীর প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

(ফেসবুকে পোস্ট টি কিছু দিন আগে ডিলিট করা হয়েছে)

পাশাপাশি তিনি এনসিপির একজন কর্মী ও গাজীপুরের সন্তান হিসেবে দলীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন বলে জানান। তবে এই ঘোষণার পরও গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে এনসিপির ব্যানারে গাজীপুর-২ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আলী নাছের। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন ফরম তোলার এই খবরে জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

শরিক দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যিনি নিজেই নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপযুক্ত মনে করেন না, যিনি এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি এবং যাকে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও তেমনভাবে চেনেন না—তাকে কেন এনসিপি প্রার্থী হিসেবে সামনে আনছে। তাদের প্রশ্ন, এটি কি জোটের শরিকদের ওপর জোর করে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নয়? এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশ্ন উঠেছে—গাজীপুর-২ আসনটি কি তবে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিরোধী পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে?

উল্লেখ্য, যোগ্য প্রার্থী খোঁজার কথা উল্লেখ করে ৮ দিন আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে ডিলিট করেছেন আলী নাছের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় আমি তখন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে দলীয় অনুরোধে আমি জোট থেকে প্রার্থী হয়েছি।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রতীক পেতে দেরি হওয়ায় আমরা এতটা সামনে আসতে পারিনি।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, গাজীপুর-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন এবং এটি ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ও গণজাগরণ রয়েছে বলে একাধিক জামায়াত নেতা দাবি করলেও বর্তমান সিদ্ধান্তকে তারা ভুল রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী ও আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X