

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নগরবান্ধব ও কলাণকামী রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে নগরবাসীর সকল সমস্যা সমাধান ও দুর্দশা লাঘবের জন্য আধুনিক নগরব্যবস্থাপনা ও সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ডিএনসিসি গড়তে জামায়াত দৃঢ় প্রত্যয়ী বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত ‘নাগরিক সেবা অ্যাপ’ উদ্বোধনকালে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিত নগরব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাট ও নগর প্রশাসনকে দলীয়করণ করার কারণেই ডিএনসিসিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই নগরজীবনে জনদুর্ভোগ, ভোগান্তি ও অস্বস্তি এখন চরমে উঠেছে। সঙ্গত কারণেই ডিএনসিসিতে ক্রমবর্ধমান মশার উপদ্রব, জলাবদ্ধতা, ময়লা আবর্জনা, যানজট, পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য ও রাস্তার খানাখন্দক সমস্যা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।
তিনি বলেন, জামায়াত একটি গণমুখী ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসাবে নগরবাসীর এসব সমস্যার সাধ্যমত সমাধানের চেষ্টার জন্য এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সে ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ‘নাগরিক সেবা অ্যাপ’ উদ্বোধন করছি। এ অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী তাদের যেকোন সমস্যার কথা আমাদেরকে সরাসরি অবহিত করলে আমরা সেসব সমস্যা সমাধানে সাধ্যমত চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি এ কর্মসূচিকে সফল করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে জামায়াতকে সহযোগিতা করার জন্য সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা দীর্ঘ পরিসরে ডিএনসিসিতে মানবিক সেবা দিয়ে আসছি। আমরা যেভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেই তা এক প্রকার মোবাইল হাসপাতাল বলা যায়। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতের নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। প্রায় অর্ধশত হাসপাতালের সাথে আমাদের স্বাস্থ্যচুক্তি রয়েছে। হাসপাতালগুলো স্বল্পমূল্যে নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। আমাদের রয়েছে ১০ টি সর্বাধুনিক এমব্যুল্যান্স। এসব সার্বক্ষণিক স্বাস্থসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। আমরা বেকারত্ব দুরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ১০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত জাকাতভিত্তিক কর্জে হাসানা কার্যক্রম পরিচালনা করছি, যাতে প্রান্তিক শ্রেণির নগরবাসীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। ডিএনসিসিতে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার কারণে সংসদ নির্বাচনে ৪টি আসনে আমাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। শরীক দল থেকেও একটি আসনে বিজয় এসেছে। আরও ২টি আসনে ষড়যন্ত্র করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে যে জামায়াতের বিপক্ষে কারচুরি করা হয়েছে তা প্রমাণ হয়েছে সদ্য সাবেক একজন উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে।
তিনি ডিএনসিতে আগামী দিনের মেয়র প্রসঙ্গে বলেন, আগামী দিনে এমন ব্যক্তির হাতেই মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে হবে যিনি রাত জেগে জেগে পুরো নগরীকে পাহাড়া দেবেন; যিনি হবেন জাতির জাগ্রত বিবেক এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার অতন্ত্র প্রহরী।
মহানগরী আমীর বলেন, জামায়াত একটি গণমুখী, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক দল। আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও মুক্তিই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমরা কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য রাজনীতি করি না বরং দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যই আমরা দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ভোট বিপ্লব হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু আমরা হদোদ্দম বা হতাশ হয়নি বরং জনগণের ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছি। আমাদের এ ইতিবাচক প্রচেষ্টা ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে-ইনশাআল্লাহ। তিনি স্বপ্নের নগরী গড়তে জামায়াতের হাতকে আরো শক্তিশালী করতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মাহনগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
মন্তব্য করুন