

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এদিন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ পড়ানোর পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ পড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সদস্যরা আজ সকাল ১০টায় প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে, পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, সংবিধানের বাইরে গিয়ে তারা এখনই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠনের জন্য প্রস্তুত নয়। তাছাড়া আইনে উল্লেখ না থাকায় পরিষদটির শপথ কে পড়াবেন, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অনেকগুলো ‘হ্যাঁ’-এর পরে’ শপথ নিলে হবে।
বিএনপি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নেই। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয় উল্লেখ আছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য নয়। তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এমন শপথ পড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে, যা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার মধ্যে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী পর্যায়ে।
জানা গেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিতদের দুটি শপথের প্রস্তুতি রেখেছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি থেকে নির্বাচিতরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন। তবে বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য যদি শপথ না নেন, সেক্ষেত্রে পরিষদ গঠন ও সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম বিলম্বিত হতে পারে।
জামায়াত ও এনসিপি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তাদের সংসদ সদস্যরা দুই শপথই নেবেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পথে মানুষ রায় দিয়েছে। আমরা শপথ নেব।’ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও নিশ্চিত করেছেন, দলের সদস্যরা দুটো শপথ গ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং শপথ গ্রহণকে ঘিরে এই বিতর্ক অহেতুক রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট ও বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিলিয়ে সমস্যার সমাধানে দলটি সমঝোতার মনোভাব দেখাবে আশা করা যায়।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে বিএনপি এই পরিষদের প্রয়োজন নেই বলে মত প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি এটি সমর্থন করেছে।
মন্তব্য করুন

