সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টার লন্ডন সফর

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের রূপান্তর ও আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত

শেখ ফরিদ উদ্দিন
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাবিষয়ক সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সফর করেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন।

এই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করেন। সফরকে ঘিরে শিক্ষা খাতে আধুনিক ও কর্মমুখী পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি ও পরিকল্পনার রূপরেখা উঠে এসেছে।

সফরের মূল প্রত্যাশা: আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা

সফরটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন—

মুখস্থ বিদ্যার অবসান: সনাতন মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে মেধা, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার।

কর্মমুখী শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের কেবল সনদনির্ভর না রেখে দক্ষ, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান-উপযোগী করে তোলা।

প্রযুক্তির ব্যবহার: শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন।

সফরের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি ও অর্জন

গুগল ফর এডুকেশনের সঙ্গে সহযোগিতা: সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা। ‘গুগল ফর এডুকেশন’-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ: শিক্ষকদের ‘পরিবর্তনের অগ্রদূত’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিটি শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাব পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ: ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা: মাধ্যমিক স্তর থেকেই বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

বাজেট ও সামাজিক সহায়তা: শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং মিড-ডে মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণের ঘোষণা। উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টার এই লন্ডন সফর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি আধুনিক, আনন্দময় এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান অর্জনই করবে না, বরং সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা এবং সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

সফর শেষে দেশে ফিরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন সাংবাদিকদের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন