

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্কের সময় তিনি ওবায়দুল কাদেরকে এই আখ্যা দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতো তখন তারা নিজেদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং অন্যদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবতেন বলে আমি আজকে আমার আর্গুমেন্টে উপস্থাপন করেছি। আমি এটাও বলেছি যে, আওয়ামী লীগের যে সেক্রেটারি জেনারেল অর্থাৎ ওবায়দুল কাদের, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন।
তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন সময়ের যে ডায়লগ, কথাবার্তা- এটা কখনোই একজন রাজনৈতিক নেতাসুলভ বক্তব্য নয়। হতে পারে না। একজন টিকটকার হিসেবে তাকে সকলে অবহিত করেন। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করে তারা ফেসবুক নানান রকমের পোস্ট দেয় এবং তার বক্তব্যগুলো এরকম হাস্যকর যে, হাসিনা এইরকম একটা জোকারকে একটা দলের সাধারণ সম্পাদক করে দলটাকে বিপর্যস্ত করেছেন। এবং শুধু দলকে বিপর্যস্ত না, তার এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন বক্তব্য কর্মকাণ্ডের কারণে আজকে সারা বাংলাদেশে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছে, ৩০০ এর মানুষের বেশি পঙ্গুত্ববরণ করেছে, অঙ্গহানী হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী অন্য যে ছয়জন, তারাও কিন্তু এরকমই দায়িত্ব জ্ঞানহীন। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল আসলে দুর্বৃত্তপরায়ণ, তারা ছিল দুর্নীতিবাজ, তারা ছিল দুষ্কৃতিকারী এবং এই ছয়জন তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের ব্যক্তিগত দায় আছে, তাদের সুপিরিয়র কমান্ড দায় আছে।
উল্লেখ্য, এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৯ জন। এর মধ্যে ২৮ জন সরাসরি ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির সাক্ষ্যও এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

