

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মন্ত্রী বাংলাদেশে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশের তরুন সমাজ তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের অংশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, গত তিন থেকে চার দশক ধরে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি এবং তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় এসেছে। এছাড়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ১০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ৮ মিলিয়নের বেশি মোবাইল ডিভাইস বাজারজাত হচ্ছে। জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, জাতীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়নেও চীনা প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে এআই খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া ভবিষ্যতে 5G নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে World Radiocommunication Conference 2027 (WRC-27) সাংহাইয়ে আয়োজন এবং ITU Council ও Radio Regulations Board-এ চীনের প্রার্থিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, দূতাবাসের তৃতীয় সচিব ঝাং পেংফেই, বাই ঝাওশি, হুয়াওয়ের মা বেন এবং জেডটিই এর মাও ইয়ংজুন সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন।
