

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে আর কোনও ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, পুলিশ সদস্যদের সেই শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, তারা পুলিশের ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, শুধু বিদেশে নয় দেশের মানুষের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত। এসময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি জানান, শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং, শুধু বিদেশেই নয় দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে জনগণ যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিলো এমন পরিস্থিতিতে সকল পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কি যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা এখনো গবেষণা করে চলছেন এটি এখনো তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্খার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।
পুলিশের প্রতি সরকারের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বছরের পর পর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নির্যাতিত নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।