বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসাদ ভুলতে ‘ম্যালাডাপ্টিভ’ কল্পনার সুখ খুঁজছেন? যা বলছে গবেষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ম্যালাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং
expand
ম্যালাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং

ম্যালাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং কী?

ম্যালাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং (Maladaptive Daydreaming) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি বাস্তব জীবনের কাজ বা দায়িত্ব এড়িয়ে অতিরিক্ত ও তীব্রভাবে কাল্পনিক জগতে মগ্ন থাকেন। সাধারণত মানুষ মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে দিবাস্বপ্ন দেখে, যা ইতিবাচক ও সৃজনশীল হতে পারে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগ নয়, তবে এটি মানুষকে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করে এবং দৈনন্দিন কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।ম্যালাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং-এর ক্ষেত্রে কল্পনাগুলো হয় অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী।

মূল লক্ষণসমূহ

• বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা: দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের তৈরি কাল্পনিক গল্প বা চরিত্রের মাঝে হারিয়ে থাকা।

• পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া: কল্পনায় ডুবে থাকার সময় অনেকে আনমনে পায়চারি করেন, হাত নাড়েন, বা কোনো বিশেষ উদ্দীপক যেমন- গান শোনার সময় নির্দিষ্ট নড়াচড়া করে থাকেন।

• প্রতিক্রিয়া: কল্পনা অনুযায়ী নিজের অজান্তেই মুখভঙ্গি করা, হাসা, কথা বলা বা কেঁদে ফেলা।

• দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত: কাজ, পড়াশোনা বা ঘুমের ক্ষতি হওয়া এবং সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।

• সামাজিক দূরত্ব ও একাকীত্ব: বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে কাল্পনিক চরিত্রের সাথে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করার কারণে তাঁরা পরিবার ও বন্ধুদের থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

• অপরাধবোধ ও লজ্জা: অতিরিক্ত দিবাস্বপ্ন দেখার পর অনেকেই সময় নষ্ট করার জন্য তীব্র অপরাধবোধ ও হতাশায় ভোগেন, কিন্তু চাইলেও এই অভ্যাস সহজে ছাড়তে পারেন না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি একটি মোকাবিলা পদ্ধতি (coping mechanism) হিসেবে কাজ করে। মানুষ নিজের মানসিক আঘাত, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা বা উদ্বেগের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবচেতনভাবেই এই কাল্পনিক জগতের আশ্রয় নেয়। এটি এডিএইচডি (ADHD), ওসিডি (OCD) বা উদ্বেগের মতো অন্য কোনো মানসিক সমস্যার সাথেও যুক্ত থাকতে পারে।

মুক্তির উপায়

এটি পুরোপুরি দূর করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং পেশাদার চিকিৎসা বেশ কার্যকর:

• জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি (CBT): এর মাধ্যমে অতিরিক্ত কল্পনা করার নেতিবাচক চিন্তা এবং অভ্যাস শনাক্ত করে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।

• মননশীলতা (Mindfulness): মেডিটেশন বা ধ্যান বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

• জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন