সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহকর্ত্রী মা নাকি কর্মজীবি মা, কে বেশি মানসিক চাপে ভোগেন?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
কর্মজীবি মা ও গৃহকর্ত্রী মা
expand
কর্মজীবি মা ও গৃহকর্ত্রী মা

সংসার আর ক্যারিয়ার- দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা যতটা কঠিন, ঘরের চার দেয়াল সামলে সবার মুখে হাসি ফোটানোও ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং। কর্মক্ষেত্র এবং পরিবার, দুই জায়গাতেই মানসিক চাপ ও উদ্বেগের পরিমাণ সমান। শুধু লড়াইয়ের ময়দান আর রূপটাই আলাদা। গৃহবধূদের জীবন সহজ নাকি চাকুরিজীবী মায়েদের- এই বিতর্ক বহু পুরোনো হলেও মনোবিজ্ঞানীরা একে কোনো সরল সমীকরণে মেলাতে রাজি নন।

তাদের মতে, নারীরা যে ভূমিকায় থাকুন না কেন, জীবনের প্রতিটি ধাপে তাদের ভিন্ন ভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর যখন একজন নারীর পুরো পৃথিবীটাই সন্তানকে ঘিরে যাপন করতে শুরু করে, তখন এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসিক চাপ অনেক সময় বিষণ্ণতা বা অবসাদ ডেকে আনে। এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি গৃহিণী এবং চাকুরিজীবী মা দুজনকেই হতে হয়, পার্থক্য তাদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যক্তিগত সংগ্রামে।

গৃহকর্ত্রী মায়েদের সংগ্রাম-

'হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল'-এর পরিসংখ্যান বলছে, পরিবার ও সন্তানের দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকায় গৃহবধূরা প্রায়ই নিজেদের শারীরিক সমস্যাগুলো অবহেলা করেন। সারাদিন চার দেয়ালের চেনা রুটিনে বন্দি থাকা এবং বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ কমে যাওয়ার কারণে একঘেয়েমি থেকে তাদের মনে তীব্র মানসিক অবসাদ বাসা বাঁধে।

চাকুরিজীবী মায়েদের সংগ্রাম-

চাকুরিজীবী মায়েদের জীবন অফিস ও সংসারের টানাপোড়েনে বন্দি। একদিকে সন্তানকে সময় না দেওয়ার অপরাধবোধ, অন্যদিকে অফিসের কাজের দুশ্চিন্তা তাদের প্রতিনিয়ত আহত করে। অফিসের টার্গেট পূরণ ও সন্তানের দায়িত্ব একসাথে সামলাতে গিয়ে তারা শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা সহজেই দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হন।

মায়েদের ব্যস্ততা আর দায়িত্ব শেষ হবার নয়। সন্তান বড় হয়ে গেলেও মায়েদের ভূমিকায় কোনও বদল আসে না। সেজন্য মায়েদের শরীরের অযত্ন একেবারেই কাম্য নয়। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের সুস্থ থাকার পথটি খুঁজে নিতে হবে। কাজের দায়িত্ব ভাগ করতে হবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। নিজের খাওয়াদাওয়া ও শখগুলির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত। প্রয়োজনে ভালো সাইকোলজিস্ট কনসাল্ট করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন