

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের। তবে রোজার এই সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আসায় কর্মক্ষেত্রে অনেকেরই মনোযোগ ধরে রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দুপুরের পর ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
সহজ কিছু কৌশল অবলম্বন করলে রোজা রেখেও অফিসের কাজে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব। নিচে তেমন কিছু কার্যকরী পরামর্শ তুলে ধরা হলো:
সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন
সারাদিন হাইড্রেটেড থাকতে এবং শক্তি বজায় রাখতে সেহরিতে জটিল শর্করা (যেমন- লাল চাল, ওটস) এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা বা কফি) পরিহার করুন, কারণ এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের সমন্বয়
অফিসে মনোযোগ ধরে রাখার প্রধান শর্ত হলো রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো। সেহরির পর থেকে অফিস শুরুর আগে পর্যন্ত অন্তত কয়েক ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ঘুমের অভাব থাকলে সারাদিন কাজে মনোযোগ দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকালে সেরে নিন
রোজার দিনে সকালের দিকে শরীরের শক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই সবচেয়ে কঠিন বা বেশি মনসংযোগ প্রয়োজন এমন কাজগুলো অফিসের প্রথম ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন। দুপুরের পর হালকা কাজগুলো হাতে রাখুন।
নামাজের বিরতি ও মানসিক প্রশান্তি
অফিসে জোহরের নামাজের বিরতিটিকে শরীর ও মনের রিফ্রেশমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করুন। নামাজের পর ৫ থেকে ১০ মিনিট নিরিবিলি বসে থাকা বা একটু পায়চারি করা আপনার মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে নতুন করে কাজে ফেরার শক্তি জোগাবে।
সঠিক নিশ্বাস ও বিশ্রামের কৌশল
টানা বসে কাজ না করে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর ৫ মিনিটের জন্য ডেস্ক থেকে উঠুন। একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিন। কাজের চাপে ক্লান্ত বোধ করলে চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। এটি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করে। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বা দীর্ঘ ফোনালাপ এড়িয়ে শক্তি সঞ্চয় করুন।
কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখা
এলোমেলো ডেস্ক আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। কাজের জায়গাটি পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখুন। সম্ভব হলে অফিসের জানালার পর্দা সরিয়ে দিন; প্রাকৃতিক আলো মনকে প্রফুল্ল রাখতে এবং ঝিমুনি কাটাতে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন

