শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ফোনে আসক্ত শিশুরা কথা বলতে দেরি করে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আসক্তি আধুনিক যুগে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

শিশু স্নায়ুরোগ (Pediatric Neurology) বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. গোপেন কুমার কুন্ডুর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশুদের কথা বলতে দেরি হওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার পেছনে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম অন্যতম পরিবেশগত কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

কথা বলতে দেরি হওয়া বা স্পিচ ডিলে (Speech Delay & Communication Issues)

শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া মূলত দুই ধরনের কারণ- জেনেটিক (বংশগত) এবং পরিবেশগত প্রভাবের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, শিশু কথা শেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, যেখানে উভমুখী আদান-প্রদান ঘটে।

কিন্তু মোবাইল স্ক্রিন শিশুকে কেবল একমুখী তথ্য প্রদান করে (Passive Stimulations), যা মস্তিষ্কের ভাষা গঠনকারী অংশগুলোকে (Broca's & Wernicke's Areas) অলস করে তোলে।

যেসব শিশুর বংশগতভাবে কথা বলতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, স্ক্রিন আসক্তি তাদের এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করে।

স্ক্রিন ডিপেন্ডেন্সি ডিজঅর্ডার ও আচরণগত পরিবর্তন (Screen Dependency Disorder)

অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিশুরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'স্ক্রিন ডিপেন্ডেন্সি ডিজঅর্ডার' (Screen Dependency Disorder - SDD)-এ আক্রান্ত হয়।

এটি এক ধরনের নন-কেমিক্যাল আসক্তি, যেখানে ডিভাইসের উদ্দীপনা মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক কেমিক্যালের ক্ষরণ ঘটায়।

ফলে শিশু বাস্তব জগত, খেলাধুলা বা পরিবারের মানুষের সাথে যোগাযোগের চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনেই বেশি আনন্দ পায়। এর ফলে শিশুর মনোযোগের ঘাটতি (ADHD) এবং সামাজিক মেলামেশার মানসিকতা কমে যাওয়ার মতো আচরণগত পরিবর্তন দেখা দেয়।

শারীরিক ও স্নায়বিক জটিলতা (Physical and Neurological Impacts)

ডিভাইস আসক্তির কারণে শিশুদের শরীরে নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ আলোকময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পাতা কম পড়ে, যা চোখ শুষ্ক করে ফেলে (Dry Eye Syndrome) এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া, একটানা ঘাড় নিচু করে স্ক্রিন দেখার ফলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ে চাপ পড়ে, যাকে মেডিকেল ভাষায় 'টেক্সট নেক সিন্ড্রোম' (Text Neck Syndrome) বলা হয়- এর থেকে শিশুদের ঘাড় ও মাথা ব্যথা শুরু হয়। পাশাপাশি স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলোটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

ডাক্তারি পরামর্শ ও প্রতিরোধ (Medical Recommendations & Conclusion)

চিকিৎসা মানদণ্ড অনুযায়ী, ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভিডিও কল ছাড়া সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত।

২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করা যায়, তাও অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে।

যদি ২ বছর বয়সের পর শিশু কোনো স্পষ্ট শব্দ বলতে না পারে বা চোখের যোগাযোগ (Eye Contact) না করে, তবে বিলম্ব না করে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন