

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুম্বাইয়ের মাল্লাড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ১৪ তলা থেকে নিচে পড়ে মারা যান বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ান। এর ঠিক কিছুদিন পরই বান্দ্রার নিজ ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় সুশান্তের মরদেহ। সে সময় ঘটনাটিকে আপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মুম্বাই পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছিল।
তবে পরিবারের পক্ষে খুনের অভিযোগ সত্ত্বেও কেন এফআইআর করা হয়নি কিংবা দীর্ঘ পাঁচ বছরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবারকে দেওয়া হয়নি- এ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট।
অবশেষে দিশার বাবার করা রিট পিটিশনের ভিত্তিতে মামলাটিতে বড় মোড় এসেছে। দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান অভিযোগ করেছিলেন যে, তার মেয়েকে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে এবং এই তদন্তে মুম্বাই পুলিশ চরম গাফিলতি করেছে।
আবেদনকারীর আইনজীবী নীলেশ ওঝার দাবি, মামলাটির সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় সংবিধান বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সারং কোতোয়াল এবং বিচারপতি রঞ্জিতসিনহা রাজাভোসলের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো মামলাটি মুম্বাই পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।
একই সাথে মালবানি থানা ও মুম্বাই পুলিশকে মামলার যাবতীয় তথ্য ও প্রতিবেদন সিবিআইয়ের কাছে সমর্পণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সিবিআইকে সতীশের জবানবন্দি রেকর্ড করতে হবে এবং একজন সিনিয়র অফিসারের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
আদালত আরো পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই অহেতুক অভিযুক্ত করা যাবে না। তদন্তের পর যদি কোনো অপরাধের সত্যতা না পাওয়া যায়, তবে সিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং সিবিআইয়ের যেকোনো নেতিবাচক প্রতিবেদনে আপত্তি জানানোর অধিকার দিশার পরিবারের থাকবে। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীর আইনজীবী।


