শনিবার
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে হেরেছেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থীরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া হেভিওয়েট প্রার্থীরা
expand
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া হেভিওয়েট প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে ফলাফলও। ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও বিভিন্ন দল আসন পেয়েছে। আবার দলগুলোর মধ্য থেকে হেরে গেছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও।

দেশব্যাপী হেরে যাওয়া এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ আসনের খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। তালিকা থেকে বাদ পড়েনি শিশির মনির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং ফুটবলার আমিনুল হকের নাম।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পরাজয়

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি।

পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।

মির্জা আব্বাসের কাছে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল ঢাকা-৮। ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর এ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে পোস্টাল ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। সবমিলিয়ে ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ২৩৯।

হেরে গেছেন ফুটবলার আমিনুল হক

ঢাকা-১৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন ধানের প্রতীকে নির্বাচন করা সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৩৭টি কেন্দ্রে মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট এবং আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে গেলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক

ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২ হাজার ৩২০ ভোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। এই আসনে অংশ নেওয়া বাকি সাতজন প্রার্থী মিলে একসাথে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৩ ভোট।

দুই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পরাজয়

এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে ৩৭ হাজার ৯০৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট, মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট।

এছাড়াও বরিশাল-৬ আসনে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ভোট পেয়ে তৃতীয়স্থান অর্জন করেন তিনি। সেখানে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও হেরে গেছেন

পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরেছেন ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সারজিস আলম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪।

কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে

খুলনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ছিলেন কৃষ্ণ নন্দী। প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে সেখানে দলীয় প্রার্থী করে জামায়াতে ইসলামী। এঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচিত হলেও তার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি সেখানকার হিন্দুরা। ফলে ‍বিএনপি প্রার্থীর কাছে তাকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে।

সে আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট, কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬।

হেরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে। ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।

হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে নির্বাচন করে এবার তিনি ৫ হাজার ৫৯২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। অপরদিকে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট।

হেরে গেলেন তাসনিম জারা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ডা. তাসনিম জারা। দেশের রাজনীতি বদলানো স্বপ্ন নিয়ে তখন থেকেই তিনি ছিলেন সোচ্চার। শুরু থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে জড়িত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। একই আসনে নির্বাচন করেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ, এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া।

বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X