

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বহিরাগত এক ভ্যান চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত হলেন, ঝিনাইদহের হাট গোপালপুরের শামীম মোল্যার সন্তান জীবন মোল্লা (১৯)।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি থেকে থেকে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত সহ দুজনকে ইবি থানার ইনস্পেকটর আসের আলীর উপস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু (১১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে অভিযুক্ত মোল্ল্যা (ক্যাম্পাসের ভ্যান চালক) ৫০০ টাকা এবং মোবাইলের লোভ দেখিয়ে টিএসসিসির বাথরুমে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে শিশুটি পাশের আরেক ভ্যানচালক আর কিছু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘এই লোক আমার মোবাইল নিয়ে চলে যাচ্ছে’ বলে চিল্লায়। তখন কিছু শিক্ষার্থী ও ভ্যান চালক অভিযুক্তকে ধরে ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে ইবি মেডিকেলে যান। সেখানে পুলিশ গিয়ে ইবি মেডিকেল থেকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি বলে জানা গেছে। বাড়ি ছেড়ে ক্যাম্পাসে এসে ভিক্ষা পেশায় যুক্ত। শিশুটি জানান, আমাকে টাকা দিবে বলে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। আমি চিৎকার দিলেও কেউ শোনেনি। পরে এক মামা এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে।
অভিযুক্ত জীবন মোল্লা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি মেইন গেইট থেকে এরে (শিশু) ৫০০ টাকা দেখাইছি পরে বাথরুমে নিয়ে গেছিলাম....।’
ইবি মেডিক্যালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তাহমিনা আফরিন তনু বলেন, ‘কয়েকজন ধরে এক শিশুকে নিয়ে আসে, তারা বহিরাগত। নাম লিস্টও এন্ট্রি করা হয়নি। পরে পুলিশ এসে নিয়ে গেছে।’
ইবি থানার কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ‘আপাতত থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিভাবক আসলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আগাবো।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বহিরাগত এক ভ্যানচালক এক শিশু ভিক্ষককে টাকার লোভ দেখিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। বহিরাগত আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। এর পরেও বহিরাগত প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগ থেকে একটা করে আইডি কার্ড ইস্যু করবে। আইডি কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

