শুক্রবার
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপকূলে লবণাক্ততা ও দূষণ টেকসই উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ: প্রতিমন্ত্রী

খুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রেজিলিয়েন্স ইন দ্য কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ আন্ডার এ চেইঞ্জিং ক্লাইমেট’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী ১ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করেছে খুবির সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, “খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। ভৌগোলিক কারণেই এই অঞ্চল ‘রিয়েল ক্লাইমেট ভিকটিম’। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও টিকে থাকা যায়।” তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং মাটি ও পানির দূষণ টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রামপাল, মোংলা, কয়রা ও সাতক্ষীরা এলাকায় এ সংকট প্রকট। এসব সমস্যার কার্যকর ও প্রকৃতি-নির্ভর সমাধান খুঁজে পেতে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।”

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন আজ বহুমুখী সংকটে রয়েছে। একে রক্ষা করতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য আমরাও কোনো না কোনোভাবে দায়ী। তাই শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সম্পৃক্ত করে গবেষণার মাধ্যমে সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “স্থায়ী সমাধানের জন্য মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই।”

চিফ প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানির সংকট ও ভূমি অবক্ষয় মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।” তিনি জানান, উপকূলঘেঁষা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুবি গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণা জোরদার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এর মাধ্যমে নতুন ধারণা সৃষ্টি, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখ সারিতে থাকলেও এটি স্থিতিস্থাপকতার এক বৈশ্বিক উদাহরণ। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা উপকূলীয় অঞ্চলে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করছে।” তিনি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মোঃ আমির হোসেন চৌধুরী এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস-এর প্রফেসর ড. শিনহুয়া পেং। সভাপতিত্ব করেন সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন। এ সময় অতিথি ও কী-নোট বক্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশির ড. রিওটা কাতাওকা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম জহিরুদ্দিন। দুপুরের পর টেকনিক্যাল সেশনে দেশি-বিদেশি ২১২ জন গবেষক তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশসহ জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় দিনে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ফিল্ড ভিজিটের আয়োজন করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন