

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বাড়লেও মান না বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে ভালো খাবার দেওয়ার আশ্বাসে দাম বাড়ানো হলেও খাবারের মান উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ডাইনিং পরিচালনাকারীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের দুটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ৪৪৭টি আসনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করেন। এছাড়া ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকেন। দুটি হলেই শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনায় ডাইনিং পরিচালিত হচ্ছে।
হলের শিক্ষার্থীরা জানান, শুরুতে খাবারের মান কিছুটা ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে তা নিম্নমানের হয়ে পড়েছে। খাবারে স্বাদহীনতা, স্বাস্থ্যসম্মত উপাদানের অভাব এবং পরিমাণ কম থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ বাড়ছে। তারা খাবারের মান উন্নয়ন এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হল প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী মুরগির মাংসের দাম ৫০ টাকা। তবে ডাইনিংয়ে মুরগির মাংস বিভিন্নভাবে ভাগ করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ও মাংসের পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাতের মানও নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় ভাতের সঙ্গে ভর্তা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না।
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুল বলেন, “হলের ডাইনিং অনেকটা হোটেলের মতো পরিচালিত হচ্ছে। ৫০ টাকায় যে মুরগি দেওয়া হয়, সেটি খুবই নিম্নমানের। একই মুরগিকে তিনভাবে ভাগ করে বিক্রি করা হচ্ছে। দুপুরে মুরগির রানের অংশ দিয়ে ৮০ টাকায় মোরগ-পোলাও এবং রাতে হাড়ের অংশ দিয়ে ৭০ টাকায় কালাভুনা বিক্রি করা হয়। বাকি অংশ ৫০ টাকায় দেওয়া হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী কখনোই ৫০ টাকায় ভালো অংশ পায় না।”
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, “সালাম ও মালেক হলের খাবারের অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। রমজানে এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে রোজা রাখা খুবই কষ্টকর। দাম বাড়লেও খাবারের স্বাদ আরও খারাপ হয়ে গেছে। হলের খাবারের দাম যেন রেস্টুরেন্টের মতো হয়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের সাধ্যের বাইরে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আদনান রায়হান বলেন, “ডাইনিং পরিচালনায় অতিরিক্ত ব্যবসায়িক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বোঝার কথা থাকলেও তা দেখা যাচ্ছে না। মুরগির দাম বাড়লে দাম বাড়ানো হয়, কিন্তু কমলে তা আর কমানো হয় না। এসব বিষয়ে হল প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে মালেক উকিল হলের ডাইনিং ম্যানেজার রাকিবুল হাসান জানি বলেন, “রমজান মাসে আমরা কখনোই বেশি দাম নেওয়ার চেষ্টা করি না। আশপাশের হলগুলোর তুলনায় কম রাখার চেষ্টা করি। তবে বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ায় কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়াতে হয়। দাম কমলে আমরা আবার কমিয়ে দিই।”
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের ডাইনিং ম্যানেজার রোবায়েত হোসেন রাকিব বলেন, “আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের ভালো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। সম্প্রতি একাডেমিক চাপ বেশি থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বাবুর্চিকে বলে দেওয়া হয়েছে যেন খাবারের মানের কোনো অবনতি না হয়। গতকাল যারা খেতে এসেছে তাদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।”
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট কামরুজ্জামান বলেন, “ডাইনিং পরিচালনাকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। শুরুতে তারা ডাইনিং পরিচালনা করে কিছুটা লোকসানে পড়েছিল। ইতিমধ্যে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। নতুন করে ভালো কাউকে পাওয়া গেলে ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. তসলিম আহমেদ বলেন, “শুরুতে খাবারের মান ভালোই ছিল। আমরা নিজেরাও সেখানে খেয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন স্বল্পমূল্যে খাবার খেতে পারে সে জন্য ডাইনিং কর্তৃপক্ষকে দাম কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য একজন শিক্ষককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”।
মন্তব্য করুন