

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিজেদের প্রণীত আইন নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন—এমন অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত ১০টার পর সব ধরনের কনসার্ট ও অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও সেই আইন অমান্য করেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাত গভীর পর্যন্ত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদন লেখাকালীন (রাত ১১ টা ২৭ মিনিটে) মঞ্চে গান চলছে। এমনকি আরো একটি ব্যান্ডের উপস্থাপনা বাকী আছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রাত ১০টার পরও গান-বাজনা ও কনসার্ট চলতে থাকে। এতে জাকসু নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
জানা যায়,গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে রাত ১০টার পর যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাত ১০টার পর কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান চলাকালীন শব্দের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে সেই বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রশাসন নিজেই যখন আইন ভঙ্গ করে, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম মানার প্রত্যাশা করা দ্বিমুখী নীতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
এর আগে, গতবছরেরই ৩০ নভেম্বর রাতে ক্যাম্পাসে উচ্চশব্দে গান পরিবেশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেদিন সন্ধ্যায় “বাউলের দ্রোহ” নামে একদল শিক্ষার্থীর গানের আয়োজন শুরু হলে রাত ৯টার পর শব্দের কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে উক্ত আইন দেখিয়ে প্রক্টরের নির্দেশে রাত দেড়টার দিকে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। এ সময় আয়োজক ও প্রশাসনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
মন্তব্য করুন
