মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী তাণ্ডবের প্রতিবাদে কারাবরণ করা মুজাহিদ এখন শাকসুর জিএস পদের দৌড়ে

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী
expand
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সংঘটিত আওয়ামী তাণ্ডবের প্রতিবাদে পোস্টারিং করার সময় ২০২৩ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী পুলিশ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন মুজাহিদুল ইসলাম। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। তার সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের ভাষ্যমতে, মুজাহিদ স্বল্পভাষী, সদালাপী ও অমায়িক স্বভাবের। শালীন আচরণ ও সংযত কথাবার্তার কারণে সর্বমহলেই আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

তিনি যখন গ্রেফতার হন তখন তিনি শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি থানা শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার এক সহযোদ্ধা অমিত আশরাফ তিহাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, তিনি স্বৈরাচারী আমলে জুলুমের শিকার হয়েছেন, কিন্তু কখনো মাথা নত করেননি।

জানা যায়, মুজাহিদের জন্ম ময়মনসিংহ জেলায়। দাখিল পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগে মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ শেষ করে ভর্তি হন শাবিপ্রবিতে। তিনি বর্তমানে শাবিপ্রবি শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া তিনি স্কুল জীবনে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ পদক প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। ক্যাম্পাসের সামাজিক সংগঠন স্টুডেন্ট এইড সাস্ট ও লিখিয়ে সাহিত্য সংসদেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। শাবিপ্রবির জুলাই স্মৃতি নিয়ে লিখিত গ্রন্থ 'জুলাই স্মৃতি : শাবিপ্রবি' সম্পাদনা করেছেন তিনি। যেটির মোড়ক উন্মোচন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

শিবিরের বছরব্যাপী শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের নেপথ্যে থেকে তিনি কাজ করেছেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণে ৫২ দফা, ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম, প্রকাশনা উৎসব, শিক্ষাবৃত্তি, চক্ষুশিবির, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ইমার্জেন্সি স্কলার্স সেলিব্রেশন, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শাকসু নির্বাচন দাবির আন্দোলনে প্রথম থেকেই তিনি ছিলেন সোচ্চার। শাকসুর আন্দোলন ও নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

এছাড়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য মেস ভাড়া বাবদ বৃত্তি, ক্যাম্পাসের ইন্টারনেটের ধীরগতি নিরসন, লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, বিভাগীর শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, রাস্তা মেরামত, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার, খাবারের সমস্যা সমাধান, শাটল সার্ভিস চালুসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন ছাত্রকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রয়েছে তার।

শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, মুজাহিদ আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিত্বের দিক থেকে মুজাহিদ ভাই অত্যন্ত অমায়িক ও বিনয়ী মানুষ। তিনি সবসময় প্রচারের আড়ালে থেকে নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দৃশ্যমান নেতৃত্বের চেয়ে কার্যকর পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই তার স্বভাব।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে সিলেট অঞ্চলের আন্দোলনকে গতিশীল করতে মুজাহিদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সাংগঠনিক সমন্বয়, দিকনির্দেশনা ও নীরব তৎপরতার মাধ্যমে তিনি আন্দোলনে শক্তি জুগিয়েছেন। ব্যক্তিগত সততা ও আদর্শের প্রশ্নে আপোশহীন তিনি, ক্ষমতা কিংবা পদ কখনোই মুজাহিদকে আকৃষ্ট করেনি।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাফিজুর ইসলাম বলেন, মুজাহিদ ভাই অত্যন্ত প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ও নৈতিকতা সম্পন্ন একজন মানুষ। তিনি কম কথা বলেন কিন্তু প্রতিটি কথায় থাকে গভীরতা ও দায়িত্ববোধ। তাঁর সততা, প্রজ্ঞা ও সংযত আচরণ তাঁকে সবার থেকে আলাদা করে তুলে ধরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ছোট থেকেই রাজনীতি সচেতন। তবে, বিগত স্বৈরাচারী আমলে আমি আমার চিন্তাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে শেয়ার করতে পারিনি। তবে, আমি থেমে থাকিনি। প্রতিনিয়ত আমি শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে কাজ করে গিয়েছি। এসকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে আমাকে কারাবরণ ও করতে হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X