রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমাটির ক্যাম্পাসে শীতের ছোঁয়া

বি এম ফয়সাল, কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল
expand
কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল

‘বৃক্ষের পদতলে জীর্ণপত্রের অশেষ উৎসব, বাতাসে কীসের গন্ধ, কাদের সঙ্গীত—একদিন ঘুম ভেঙে দেখি, এসে গেছে শীত।’ কবির পঙক্তির মতোই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রাঙ্গণে নেমে এসেছে শীতের ছোঁয়া।

হেমন্তের সোনালি বিকেল পেরিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন কুয়াশার নরম চাদর। সকালের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে দোলে পত্রকুঞ্জ, শিশিরভেজা ঘাসে জমে থাকে মুক্তোর মতো জলবিন্দু। ক্লাসের পথে হাঁটা শিক্ষার্থীদের মুখে দেখা যায় গরম চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়ার উষ্ণতা, আর আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে আসে নতুন ঋতুর ঘ্রাণ।

বাংলা বর্ষপঞ্জি বলছে, এখনও মাঘ মাস আসেনি, তবু প্রকৃতির ভেতর শুরু হয়েছে শীতের আয়োজন। গাছের পাতা ঝরে পড়ছে নিঃশব্দে, বাতাসে মিশে আছে একরাশ শীতল নিস্তব্ধতা। হেমন্তের প্রৌঢ়ত্ব পেরিয়ে শীতের আবির্ভাব যেন এক মায়াবী রূপান্তর যেখানে রিক্ততার মধ্যেও রয়েছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঋতুবদলের দিনে প্রকৃতি যেন নিজেই বলে ওঠে -‘এসে গেছে শীত।’

ঋতুচক্রের ধারায় বারবার বদলায় প্রকৃতির রূপ, কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসে শীতের আগমন যেন সব ঋতুর ভেতর সবচেয়ে আলাদা। অন্য পাঁচ ঋতুর উচ্ছ্বাসের ভিড়ে শীত আসে নিঃশব্দে তবু তার উপস্থিতি গভীর ও অনুভবযোগ্য। রুক্ষতা, তিক্ততা আর হালকা বিষাদের প্রতিমূর্তি হয়ে নেমে আসে শীতকাল।

ভোরের আলো ফুটতেই শীতের কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা জড়িয়ে ধরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। সামনের কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না;সবকিছু মিশে থাকে সাদা অস্পষ্টতায়। কখনো কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে মনে হয় সময়ের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে কুয়াশার লালমাই পাহাড়। কৃষ্ণচূড়া রোডে, গাছের নিচে, সেন্ট্রাল মাঠের ধারে কিংবা মুক্তমঞ্ছে জেগে ওঠে এক অন্যরকম নীরব সৌন্দর্য। এ সময় হাজারো পাখির আগমন ঘটে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। শীতের আগে থেকেই তারা আসতে শুরু করে। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের হাসির সঙ্গে মিশে যায় পাখিদের গান, আর প্রকৃতি যেন নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখে শীতের নরম সুর।

এক সকালে ঘুরতে ক্যাম্পাসে কথা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে। শীতের সকাল উপভোগ করতে এসে রসায়ন বিভাগের বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীরুল ইসলাম মুন্না বলেন, যখন ভোরে ক্যাম্পাসে হাটতে আসি তখন মনে হয় ভোরে ক্যাম্পাস এত সুন্দর কেন? কুয়াশাময় শীতের সকালে আমাদের লাল বাস, নীল বাস, মুক্তমঞ্ছ, শহিদ মিনার,কেন্দ্রীয় মাঠ দেখার একটা আলাদা মজা আছে। সকালে যারা জাগে না, তারা কখনো এটা উপলব্ধি করতে পারবে না।

মেহরাব হাসান নাদেল নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যাম্পাসে এসেছি ছয় মাসের মতো হয়েছে। কুমিল্লা আসার আগেই শুনতাম এখানের শীতের সকাল নাকি সুন্দর। আজকে ফজরের নামজ পড়ে সকালে বের হলাম দেখতে। এত সুন্দর চারদিকে, এত কুয়াশা, অবাক করার মতো। অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এক ছাত্রী স্মৃতিমুখর হয়ে বললেন, “আমার পড়াশোনা প্রায় শেষের পথে। এই ক্যাম্পাসে এটাই হয়তো আমার শেষ শীতকাল। যেমন শীত ধীরে ধীরে বিদায় নেয়, তেমনি আমিও বিদায় নেব এই প্রিয় প্রাঙ্গণ থেকে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীত, সকালের কুয়াশা আর এই মায়াময় প্রকৃতিকে আমি গভীরভাবে মিস করব।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Argentina
Scheduled
20 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup