রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলনের পর্দা নামলো

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
expand
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশ ও বিদেশের প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (আইসিএমআরএস)’ শীর্ষক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৯ ও ১০ জানুয়ারি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির(বার্ড), ময়নামতি অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর্দা নামে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. পিয়ার আহমেদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসাইন উদ্দীন শেখর, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাঈল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজিদুল করিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ। কনফারেন্স সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।

জানা যায়, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৬৩০ জন গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য মোট ২৭০টি গবেষণা অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮৪টি অ্যাবস্ট্রাক্ট নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত অ্যাবস্ট্রাক্টগুলোর মধ্যে প্রায় ১৪০টি মৌখিক (ওরাল) প্রেজেন্টেশন এবং ৩৫টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও সম্মেলনে ১৩টি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রবন্ধ (কী-নোট পেপার) উপস্থাপন এবং ৫টি প্লেনারি টক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থাপিত অ্যাবস্ট্রাক্টগুলোর মধ্য থেকে ২৬টি প্রেজেন্টেশনকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম দিনে ১৪টি ভেন্যুতে ৬টি কী-নোট সেশন, ১৩টি টেকনিক্যাল সেশন এবং ১টি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে ৯টি ভেন্যুতে ৪টি কী-নোট সেশন এবং ৯টি টেকনিক্যাল সেশন আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসাইন উদ্দীন শেখর বলেন, “আমাদের পেরিফেরি লেভেলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণাগার ও ল্যাব সুবিধা নেই। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে।”

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, “আমরা এখনো বহুমুখী গবেষণায় পর্যাপ্ত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারছি না। এই ঘাটতি পূরণে মাল্টিডিসিপ্লিনারি গবেষণা সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. পিয়ার আহমেদ বলেন, “বর্তমান যুগে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়ন এসব চ্যালেঞ্জ আর একক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহুমুখী গবেষণা এসব বিষয়কে সংযুক্ত করতে সহায়তা করে।”

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের সম্মিলিত গবেষণা প্রয়োজন। এ ধরনের সম্মেলন উন্নত দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী অডিওবার্তায় বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু শিক্ষাদানের কেন্দ্র নয় বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনের এক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ইতোমধ্যে দুইটি আন্তর্জাতিক উপ-সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবং সম্প্রতি কলা অনুষদ আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন করেছে। এসব উদ্যোগ আমাদের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।'

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সুপরিকল্পিত আয়োজন ও একাডেমিক নিষ্ঠার মাধ্যমে একটি অর্থবহ গবেষণা পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশি-বিদেশি গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বহুমাত্রিক গবেষণার গুরুত্ব ও সম্ভাবনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।”

তিনি আরও বলেন, কী-নোট বক্তৃতা, প্লেনারি, টেকনিক্যাল ও পোস্টার সেশনগুলো গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই আয়োজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন গবেষণার দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সম্মেলনের সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, “এই দুই দিনে আমরা মূল্যবান আইডিয়া শেয়ার, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে এই সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X