বৃহস্পতিবার
০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বিয়ের জের: স্বামীকে হত্যা করে ৬ টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
আসামি ফাতেমা বেগম | ছবি : সংগৃহীত
expand
আসামি ফাতেমা বেগম | ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে লাশ গুমের অভিযোগে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ (নাসির) বলেন, হত্যার অপরাধে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের আমতলী এলাকা থেকে একটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর মাথাবিহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে মরদেহের বিচ্ছিন্ন দুই হাত ও দুই পা উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমা বেগমকে।

তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে তাকে জবাই করে মরদেহ ছয় টুকরো করেন।

পুলিশকে দেওয়া তথ্যমতে, তিনি মরদেহের মাথা একটি লাল কাপড়ের ব্যাগে, দেহের মূল অংশ একটি নীল পানির ড্রামে এবং দুই হাত ও দুই পা আরেকটি ব্যাগে ভরে ফেলেন। পরে রিকশা ভাড়া করে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। মাথাটি বনানী ১১ নম্বর সেতুর পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ জুন নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফাতেমাকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনে ফাতেমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Austria
Scheduled
03 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup