মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় উদঘাটন, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সব তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
expand
‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় উদঘাটন, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সব তথ্য

সাভারে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ‘সিরিয়াল কিলার’ নামে পরিচিত সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় ও অপরাধের নেপথ্যের ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ। নিজ পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অপরাধ করত সে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। পরিবারের নানাবাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই ভবঘুরে জীবনযাপন করছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত বা নির্জন ভবনে নিয়ে যেত সবুজ। পরে তাদের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক বা তার সন্দেহ হলে নির্মমভাবে হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনার কয়েক দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে সে। ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য এক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের ঘটনায় প্রথমে যুবকটিকে ভবনের দোতলায় হত্যা করা হয়। এরপর নিচতলায় তরুণীকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সবুজ ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরপর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন।

সাভার মডেল থানার আশপাশে নিয়মিত ঘোরাফেরা করা এই ব্যক্তি কখনো নিজেকে ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয়ে পরিচিত করাত। তবে সে যে ঠিকানা ও নাম বলেছে, তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “খুনের পেছনের কারণ সম্পর্কে সে একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে।”

ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)–এর পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত পূর্বে যে ঠিকানা ও পারিবারিক পরিচয় দিয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, অভিযুক্ত মানসিকভাবে বিকৃত এবং সাইকোপ্যাথিক আচরণের পরিচয় দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা জানান, সম্রাট নামের ওই ব্যক্তি তিন থেকে চার বছর ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করত, মানুষের কাছ থেকে টাকা চাইত এবং মাঝে মাঝে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। তার প্রকৃত পরিচয় বা ভয়াবহ অপরাধের বিষয়ে কেউ কিছুই জানত না।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একাধিক অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের লাশ উদ্ধার হয়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে লাশ সরাতে দেখা যায়। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সম্রাটকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তের অতীত অপরাধ ইতিহাস এবং কারাগারে থাকার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X