

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক অফিস নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে বাতিল করা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, মানবসম্পদ বিভাগ-১ এর ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের অফিস নির্দেশের ভিত্তিতে ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেনকে প্রধান অর্থনীতিবিদ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনায় আগের ওই নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।
তবে তার নিয়োগ কার্যকর হয়েছিল আরও আগে—১ জুলাই ২০২৫ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ড. আকতার হোসেনকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রধান অর্থনীতিবিদ নিয়োগ দেয়। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
অর্থাৎ, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস আগেই তার চুক্তির অবশিষ্ট সময় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তবে সর্বশেষ অফিস নির্দেশনায় চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ড. আকতার হোসেন প্রধান অর্থনীতিবিদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে পদটিতে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯ সাল থেকে তিনি এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান অর্থনীতিবিদের পদটি আবার শূন্য হয়ে যায়। এরপর প্রায় দেড় বছর পদটি পূর্ণাঙ্গ প্রধান অর্থনীতিবিহীন ছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. আকতার হোসেনকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. আকতার হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য হিসেবেও তার নাম রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রানীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে তাকে প্রধান সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক গবেষণা, মুদ্রানীতি বিশ্লেষণ এবং নীতিগত পরামর্শ কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন বাতিল—নথিতে নেই ব্যাখ্যা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ অফিস নির্দেশনায় ড. আকতার হোসেনের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, আগের অফিস নির্দেশনার আওতায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাতিল করা হলো।
ফলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কেন তার চুক্তি বাতিল করা হলো, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক, নীতিগত বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে নিয়োগের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দুই বছরের জন্য এবং ১ জুলাই ২০২৫ থেকে তা কার্যকর।

