

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তবে অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ কেন বাতিল করা হলো, তার কোনো কারণ জানানো হয়নি।
একই দিনে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের ঘটনায় ব্যাংক খাতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগের চুক্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকার পরও সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি সরকার।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি মো. জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান।
উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী মো. আনোয়ারুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
একইভাবে বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে জানা যায়, এই তিনটি ব্যাংক দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করলো সরকার। অবশিষ্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদেও পরিবর্তন আসবে দ্রুত।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে তিন এমডির চুক্তি বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণের কথাও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিন এমডিকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? তাদের কর্মদক্ষতা নিয়ে সরকারের কোনো মূল্যায়ন হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তার ফল কী, কিংবা ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কি না—এসব বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির ক্ষেত্রে একই দিনে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিলের ঘটনা নয়; বরং একই সঙ্গে তিনটি ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
সরকারের সিদ্ধান্তের পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ চুক্তিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি তিন ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়াও সামনে আসবে।


