

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টি (BG) ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (SBLC) বিপরীতে এখন থেকে বাংলাদেশে থাকা কোম্পানিকে টাকায় ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আলাদা করে পূর্বানুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা ‘Loans, Overdrafts, Guarantees and External Borrowings’ সংক্রান্ত নতুন সমন্বিত সার্কুলারে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশি BG বা SBLC-এর বিপরীতে দেশে থাকা যেকোনো মালিকানার কোম্পানিকে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি টাকায় অর্থায়ন করতে পারবে। অর্থাৎ কোম্পানিটি দেশীয় মালিকানাধীন হোক কিংবা বিদেশি মালিকানাধীন—নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে বিদেশি BG বা SBLC অবশ্যই ‘unconditional, irrevocable and payable on first demand’ হতে হবে। অর্থাৎ কোনো শর্ত ছাড়াই, প্রত্যাহার অযোগ্য এবং প্রথম দাবিতেই অর্থ পরিশোধযোগ্য গ্যারান্টি হতে হবে।
এ ছাড়া গ্যারান্টি প্রদানকারী বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির কাছ থেকে সন্তোষজনক ক্রেডিট রেটিং থাকতে হবে। রেটিং কমপক্ষে ‘BB’ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত Rating Grade 1–2-এর সমমান হতে হবে। গ্যারান্টি গ্রহণকারী দেশীয় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দেশের ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে।
নতুন নীতিতে ঋণগ্রহীতার ওপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিদেশি BG বা SBLC সংগ্রহের জন্য ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো ফি, কমিশন, চার্জ বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া যাবে না।
ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি গ্যারান্টির আইনগত কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন দেশের আইন প্রযোজ্য হবে, বিরোধ দেখা দিলে কীভাবে নিষ্পত্তি হবে এবং বাংলাদেশে গ্যারান্টিটি কার্যকর করা সম্ভব কি না—এসব বিষয় আইনগতভাবে যাচাই করতে হবে।
পাশাপাশি ঋণদাতা ব্যাংককে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, পরিশোধের সামর্থ্য ও সামগ্রিক ঋণযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, নগদ প্রবাহ এবং অন্যান্য আর্থিক সূচক বিবেচনায় নিতে হবে।
বিদেশি গ্যারান্টি বা SBLC-এর বিপরীতে দেওয়া ঋণের মেয়াদ শেষে সেটি নবায়ন করা হলে সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টি ব্যাংকের কাছে লিয়েনে রাখা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার ব্যবসার টার্নওভার, মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও হিসাব পরিচালনার অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, তা ব্যাংককে মূল্যায়ন করতে হবে।
কোনো ঋণগ্রহীতা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদেশি BG বা SBLC ‘invoke’ বা কার্যকর করা হলে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি গ্যারান্টির অর্থ পরিশোধের পর সেটি কীভাবে হিসাবভুক্ত হবে, তারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী তা ইক্যুইটি বিনিয়োগ অথবা ঋণের অর্থ হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে। ঋণের অর্থ হিসেবে রিপোর্ট করা হলে পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ বিদেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২-এর পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।
বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির জন্যও সুবিধা
নতুন সমন্বিত সার্কুলারে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির দেশীয় ঋণ নেওয়ার সুযোগও স্পষ্ট করা হয়েছে।
বাংলাদেশে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম চালানো বিদেশি মালিকানাধীন/নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বা ব্যবসার আধুনিকায়নের (BMRE) জন্য দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে টাকায় মেয়াদি ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মালিকানার অংশ কত শতাংশ, সেটি বাধা হবে না। তবে মোট ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত ৬০:৪০-এর সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং অন্যান্য প্রুডেনশিয়াল শর্ত মানতে হবে।
বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়মও এক জায়গায়
বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ঋণ নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে আগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’র অনুমোদন নিতে হবে। এর আওতায় সরবরাহকারী ঋণ, বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণ এবং বিদেশি পুঁজিবাজারে ঋণপত্র ইস্যু—সবই রয়েছে।
তবে বিদেশি সরবরাহকারী বা ক্রেতার কাছ থেকে এক বছর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
অনুমোদিত বিদেশি ঋণের আসল, সুদ ও অনুমোদিত চার্জ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলোকে আলাদা করে প্রতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের অর্থ দেশে এসেছিল, সেই ব্যাংকের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত এক বছরে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো একত্র করে এই নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা জারির পর আগের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাতিল হবে। সার্কুলারটি জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে।


