বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফাগুনের ছোঁয়ায় লাল হয়ে উঠেছে উল্লাপাড়া

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
উল্লাপাড়ার প্রকৃতি
expand
উল্লাপাড়ার প্রকৃতি

ফাগুনের আগুনরাঙা ছোঁয়ায় লাল হয়ে উঠেছে উল্লাপাড়ার প্রকৃতি। ঘাটিনা রেল ব্রিজ থেকে সলপ স্টেশন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার রেলপথজুড়ে সারি সারি শিমুল গাছে ফুটেছে টকটকে লাল ফুল। আবার সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত নদীর দুই পাড়েও প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে শিমুলের লালিমা যেন বসন্তের রঙে রঙিন এক চিত্রপট এঁকেছে।

মৃদু বসন্ত বাতাসে দুলছে ফুল, ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি সুবাস। শিমুলের আকর্ষণে পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে এ স্থানটি এখন প্রিয় এক গন্তব্য।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রকৃতি প্রেমীদের যেন হাতছানি দেয় এই স্থান। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন প্রকৃতির রঙিন সাজ উপভোগ করতে, ভালোবাসার মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ক্যামেরার ফ্রেমে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেমন দল বেঁধে আসছে, তেমনি পরিবার-পরিজন নিয়েও অনেকে বেড়াতে আসছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ঘাটিনা এলাকায় বসে ছোট্ট এক আনন্দমেলা। নাগরদোলা ও নানা রকমের মেলার সামগ্রী ঘিরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস যেন বসন্তের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

প্রকৃতিপ্রেমী এক দম্পতি জানান, বসন্ত এলে সলপ স্টেশনের অদূরে ঘাটিনা রেলব্রীজ সংলগ্ন সারি সারি শিমুল গাছ অসাধারণ সৌন্দর্যে সেজে ওঠে। লাল ফুলে ঘেরা এ স্থানটি তখন রূপ নেয় এক অনন্য দর্শনীয় স্থানে। তাই বসন্তকালেই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি দেখা যায়।

শাহজাদপুর থেকে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখে জায়গাটির কথা জানতে পেরেছেন। প্রকৃতির এমন মনোরম পরিবেশ পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত স্থান বলেও মনে করেন তারা।

দর্শনার্থীদের একজন বলেন, শহরের কোলাহল ছেড়ে এখানে এসে যেন মনটা জুড়িয়ে যায়। লাল শিমুল, পাখির ডাক আর মানুষের আনন্দ সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, পড়ন্ত বিকেলে এখানে এসে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ অনুভব করতে পারব, তা কল্পনাও করিনি। শিমুল ফুলের রূপ আর মানুষের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই অসাধারণ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হামিদুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন শুধু শিমুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তার ভাষায়, এমন রঙিন আর প্রাণবন্ত পরিবেশ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।

ফাগুনের লাল আগুনে রাঙা শিমুলে সাজানো ঘাটিনা রেল ব্রিজ এখন শুধু একটি সেতুই নয়, এ যেন বসন্তের এক জীবন্ত কবিতা, যেখানে প্রকৃতি আর মানুষের আনন্দ মিশে গেছে এক অনন্য ছন্দে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন