

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ আহোরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের প্রত্যেকের ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার, সচিব ও তার লোকদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক জেলেকে ৬ থেকে ১০ কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটেছে। সরেজমিন ও উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ১০৫০ জন জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেয় সরকার। মা ইলিশ আহরোণ থেকে বিরত থাকা প্রকৃত মৎসজীবী জেলেদের জীবন যাত্রা নির্বাহের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সরকার মৎস অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতি বছর ভিজিএফ চাল বিতরণ করে থাকে।
এতে কার্ড ধারী মৎসজীবী জেলেরা প্রত্যেকে ৮০ কেজি চাল পেয়ে থাকেন। কিন্তু দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান প্রত্যেক জেলেকে ৬ থেকে ১০ কেজি চাল কম দিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮ টা থেকে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেদরগঞ্জ উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার উপস্থিত হওয়ার আগেই সকাল ৭ টা থেকে এ চাল বিতরণ শুরু করেন সেকান্দার খান ও তার লোকজন। চাল মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মতো চাল বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান। চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পান প্রত্যেক জেলেকে চাল কম দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হককে জানানো হলে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে.এম রাফসান রাব্বি ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা এসে চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পান। এরপর তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে বাকি থাকা জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। ট্যাগ অফিসার উপস্থিত হওয়ার আগে চাল বিতরণ, ওজনে কম দেওয়াসহ অনিয়মের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রসাশন।
দক্ষিণ তারাবুনিয়ার জেলে ভুক্তভোগী জেলে রকিব মাঝী। মঙ্গলবার সকালে চাল নিতে এসেছেন তিনি। সকাল ১০ টায় পরিষদের সামনে কথা হয় তার সাথে।
তিনি বলেন, আমাকে আজ ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। বাকি চাল কি করছে সেটা বলতে পারছি না। আমি জিজ্ঞেস করলাম চাল কম দিয়েছেন কেনো তার বললো কম এসেছে তাই কম দিয়েছি। কি করবো বলেন? আমরা গরীব মানুষ কথা বললে কে শুনবে।
মাল বাজার এলাকার ফয়সাল হোসেন। বাবার নামের চাল নিতে এসেছেন তিনি। দুপুরে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলেছে দুই কিস্তিতে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে। চাল মেপে দেখা যায়, ৭২ কেজি হয়েছে। চেয়ারম্যান বললো উপজেলা থেকে চাল কম দিয়েছে তাই কম দিছি। তার কথা শুনে কিছু বলার সাহস পাই নি। কিন্তু আপনারা আসার পরে দেখলাম ৮০ কেজি করে দিচ্ছে বিষয়টা বুঝলাম না। অভিযোগ দিয়ে কি করবো বলেন? অনিয়ম দুর্নীতি কি বন্ধ হবে?।
নরুদ্দী এলাকার আরেক জেলে বলেন, আমরা সরকারের দেওয়া অভিযান মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছি। সংসার চলে না। সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। এরপর দুই মাসের ৮০ কেজির চালের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে ৭০/৭২ কেজি।
এ অনিয়মের বিচার করবে কে? চেয়ারম্যান সেকান্দর খান কে বললে তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এখন কম দিলেও আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা এখন প্রতিবাদ করবো আপনারা চলে গেলে পরে আমাদের সমস্যা হবে। আপনাদের সাথে যেই অবস্থা করলো আমরা প্রতিবাদ করলে এই এলাকায় থাকতেই পারবো না।
অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান বলেন, আমি সঠিক মাপে চাল দিচ্ছি কোন সমস্যা নেই। চাল কম দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে আমি কত কেজি চাল দিবো সেটা আমার ব্যাপার আপনি ওজন মাপার কে? এই পারমিশন আপনাকে কে দিলো। এইখান থেকে চলে যান এক্ষুণি না হয় সমস্যা হবে।
দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার জাহিদুর রহমান সরকার বলেন, দুই, তিন কেজি করে কম দিচ্ছি এর বেশি নয়। বুঝেন তো বস্তায় কিছু চাল কম থাকে। দুতিন কেজি কম দিতে পারেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এবিষয়ে চেয়ারম্যান ও সচিব স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, অনিয়মের সংবাদ পেয়ে সেখানে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও সিনিয়র মৎস কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তাঁরা সেখানে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে। তাদের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন