মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর হাটে হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, রশিদে থাকছে না টাকার অংক

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১২:২০ পিএম
রাজশাহীর পশুহাট
expand
রাজশাহীর পশুহাট

রাজশাহীর বিভিন্ন পশুহাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এতে কোরবানির পশু কিনতে আসা সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

রাজশাহীর সিটি হাট থেকে সোমবার ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন গোলাম মোর্তজা। গরুটি কিনতে তাকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। ইজারাদারের লোকজন রশিদ দিলেও সেখানে টাকার অংক লেখা ছিল না। তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এভাবেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

গোলাম মোর্তজা বলেন, সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিলেও তা হাসিলে লেখা থাকে। সিটি হাটে হাসিলে টাকার পরিমাণই লেখা হচ্ছে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিটি হাট নয়, রাজশাহীর অন্যান্য পশুহাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। সেখানে গরুর জন্য এক হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হচ্ছে। করপোরেশন গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই অনেক রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন শওকত আলী বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হারের চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। হাটে গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশ-খুঁটিও পুঁতেছি। করপোরেশন এসব কাজ করেনি। আমরা নিজেরা খরচ করেছি। সেই খরচ তুলতেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো মহুরি (আদায়কারী) লিখতে ভুলে যাচ্ছে। কার কাছে এটা হচ্ছে জানতে পারলে তাকে কাজেই রাখা হবে না।

সিটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা।

তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, নওহাটা পশুহাটের রশিদে টাকার অংক না লেখার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহীর পাখিপ্রেমী হাসনাত রনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন একটি রশিদের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “খাজনা বা হাসিলের রশিদ পাবেন। রশিদে সব কিছু লেখা থাকবে। শুধু কত টাকা আদায় করা হলো সেটা লেখা থাকবে না। এই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? এ দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন?”

নওহাটা পশুহাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, নওহাটা পশুহাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবার কোনো হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন