

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টেকনোলজিস্ট ও রেডিওলজিস্ট না থাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম সেবা। এতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত এ সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সেবা বন্ধ থাকার সুযোগে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি দালাল চক্র। তারা গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের ফুসলিয়ে নিম্নমানের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে এবং কমিশনের বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
হাসপাতালে আধুনিক আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকা সত্ত্বেও সোনোলজিস্ট না থাকায় গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষটি। যেখানে মাত্র ১১০ থেকে ২২০ টাকায় এই পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল, সেখানে এখন বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
সরেজমিনে সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয়ের জন্য আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে রোগীরা জানতে পারছেন, সেবাটি বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়ে তারা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে আলট্রাসনোগ্রাম সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করা হতো। বর্তমানে গাইনি ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী আলট্রাসনোগ্রাম সেবার জন্য আসেন।
বালিয়াকান্দি থেকে আসা রোগী মনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। কিন্তু এসে শুনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলট্রাসনোগ্রাম হয় না। বাইরের ক্লিনিকে টেস্ট করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। তবুও বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।”
আরেক রোগীর স্বজন জাহিদ মিয়া বলেন, “সদর হাসপাতাল এখন নিজেই অসুস্থ। এখানে ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, চিকিৎসা নেই। তারপরও ভরসা করে আসি। আমার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পর আলট্রাসনোগ্রাম করতে বলেছেন, কিন্তু হাসপাতালে না হওয়ায় বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান দরকার।”
সুরঞ্জিত দাস বলেন, “শুনেছি হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন অনেক ভালো। কিন্তু ব্যবহার না থাকায় সেটি পড়ে আছে। দীর্ঘদিন এভাবে বন্ধ থাকলে মেশিনেরও ক্ষতি হবে। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সেবাটি চালু করা জরুরি।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, “আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সংশ্লিষ্ট পদে রেডিওলজিস্ট (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) না থাকার কারণে সেবাটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদে চিকিৎসক পেলেই আলট্রাসনোগ্রাম কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।”
মন্তব্য করুন
