বৃহস্পতিবার
০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় ঘুষের অডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবিঃ এস আই আবু হানিফ।
expand
ছবিঃ এস আই আবু হানিফ।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভারতীয় চোরাই প্রসাধনী পণ্য জব্দের ঘটনায় ঘুষের বিনিময়ে মালামাল ছেড়ে দেওয়ার দর–কষাকষির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআই এর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা কলমাকান্দা থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) বিকাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফা ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ডাভ শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস। এ সময় পিকআপের চালক নাসিম ও তার সহকারী মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিম ওই চোরাই চালানের মূলহোতা। তাকে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন। উত্তরে অপর ব্যক্তি বলেন, না ভাই, এর কম হবে না, তিন লাখ টাকা দেন। এতে আপনার উপকার হবে।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।

জবাবে কথিত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, আপনি যা করার দ্রুত করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি, আপনার জন্য ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন। উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন ভবানীপুর ব্রিজ পার হয়ে রামপুর বন্দের আশে পাশে থামবেন। কষ্ট করে হলেও দুই লাখ টাকা দেব, একটু সময় দেন।

একপর্যায়ে কথিত পুলিশ কর্মকর্তার কণ্ঠে আরও শোনা যায়, হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই আবু হানিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

কথোপকথনের অপর ব্যক্তি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, চোরাকারবারির সঙ্গে কথোপকথন করা ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে এসআই আবু হানিফ বলে ধারণা করছি। তবে চোরাকারবারির সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। পুলিশ সুপার স্যার এসআই আবু হানিফকে থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন