শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ডেপুটি স্পিকারের

কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ এএম
ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার জনাব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
expand
ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার জনাব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার জনাব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এ সময় তিনি ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের ১নং ও ৩নং ওয়ার্ডের জনগণের অংশগ্রহণে বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় ও ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে এবং মো. ফেরদৌস মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘গত ১৫-২০ বছর বাংলাদেশে কোনো কার্যকরী বিরোধী দল, মত বা পথ ছিল না। জাতীয় সংসদ ছিল তৎকালীন সরকারি দলের একটি ‘‘রাবার স্ট্যাম্প’’এর মতো। সেখানে গৃহপালিত বিরোধী দল ছিল। এই কারণেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছে। আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

আগামীর বাংলাদেশ বৈষম্যহীন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা থাকবে, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে সমান মর্যাদা পাবে। আমরা মসজিদ ও মন্দির ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুশাসনের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম করতে চাই।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রশাসন ও এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি বলেছিলাম, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। সেই কথা এখনো বহাল আছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলে কাজ করছে। আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।’

মাদকে আসক্ত বিপথগামী তরুণদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মাদক সেবন করে বিপথে গেছে, তারা আমাদেরই সন্তান। তাদেরকে বুঝিয়ে সুপথে আনতে হবে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন