

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নাটোরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। এদের বেশিরভাগই নাটোর পৌর এলাকার বাসিন্দা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি অতিরিক্ত জায়গাতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা।
রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকদের ধারণা, আবহাওয়া ও পানিসহ বিভিন্ন কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নজরদারি করা দরকার।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহে ৫১৬ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জন ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও অন্যান্য সামগ্রী মজুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও নাটোরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পাঁচ শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল তদন্তে এলেও ডায়রিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও উদঘাটন হয়নি। পরে পানির নমুনা পরীক্ষা করে কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
এক বছর না পেরোতেই আবারও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেওয়ায় এর কারণ এবং নিরাপদ পানি ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

