শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও, ‘খেলনা অস্ত্র’ দাবি নির্মাতার

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ এএম আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ এএম
বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও, ‘খেলনা অস্ত্র’ দাবি নির্মাতার। ছবি: সংগৃহীত
expand
বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও, ‘খেলনা অস্ত্র’ দাবি নির্মাতার। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘোরাফেরার ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে কেউ কেউ দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারের সমালোচনা করেছেন। তবে ভিডিওটির নির্মাতা দাবি করেছেন, এটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়; মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতেই খেলনা বন্দুক ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতরে, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে তাঁদের বন্দুক হাতে ঘুরতে দেখা যায়।

ভিডিওতে তারা সামনে থাকা বিভিন্ন মানুষের দিকে হঠাৎ বন্দুক তাক করছেন। এ সময় রিকশাচালক, পথচারী এমনকি শিশুকেও দেখা যায়। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কিত হয়ে সরে যাচ্ছেন, আবার কেউ বিস্মিত হয়ে তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে এটিকে দেশে অস্ত্রের সহজলভ্যতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট করেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করেন।

তবে ভিডিওটির নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা বলেছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি ভিডিও। তাঁর সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা অন্য তরুণের নাম ইয়াসিন। তিনি ভিডিও ধারণে লিমনকে সহযোগিতা করেন।

লিমন জানান, ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা হয়েছে। পার্কটির আগের নাম ছিল শেখ রাসেল নগর পার্ক।

ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তাঁর বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ‘ওয়াফি লিমন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই নিজের বলে জানিয়েছেন লিমন।

লিমনের ভাষ্য, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। সেসব সিনেমা ও নাটকের কিছু দৃশ্য অনুসরণ করে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন তিনি।

বিশেষ করে পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পাওয়ার পর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা তাঁর মধ্যে বেড়ে যায় বলে জানান লিমন। তাঁর কনটেন্ট নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি। মানুষকে বন্দুক হাতে ভয় দেখানো যায় কি না এবং এ ধরনের কাজ অপরাধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লিমন তোহা বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, অন্য দেশেও অনেকে এ ধরনের ভিডিও তৈরি করেন। টিকটকে বিভিন্ন দেশের ট্রেন্ড দেখে তিনি ভিডিওটি তৈরি করেছেন এবং এটি ‘শুধুই মজা করে’ বানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভিডিওতে ব্যবহৃত বন্দুক দুটি খেলনা বলেও দাবি করেন লিমন।

ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ বিষয়টি দেখেছে দাবি করে তিনি বলেন, শুরুতে বন্দুক দেখে কেউ কেউ ভয় পেলেও পরে সেটি খেলনা বুঝতে পেরে তাঁরা স্বাভাবিক হন এবং কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে মজাও করেছেন।

লিমনের দাবি, পুলিশ সদস্যরাও প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পারেন যে বন্দুকগুলো খেলনা। এ কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। পুলিশের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে সেটি ঠিকমতো ধারণ না হওয়ায় পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

লিমন ও ইয়াসিনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার এলাকায়। তবে ভিডিওটি যে এলাকায় ধারণ করা হয়েছে, সেটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেছেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন।

তিনি বলেন, তাকে কেউ বিষয়টি জানাননি এবং এ নিয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। সিটি পার্ক এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন এবং পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে ওসি বলেন, সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন