

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


'আমার ভাইয়ের পাঁচজন জন ছাওয়াল-মাইয়্যে। চার ছাওয়ালের বড়ডার বয়স সাতারো বছর। সেই ছাওয়ালডারে ওরা কুপাইছে। তার অবস্থা বেশি ভালো না। আর সবচেয়ে ছোট মাইয়েডার বয়স মাত্র দেড় মাস। এই ছাওয়াল-মাইয়্যের এহন কি হবে। ওগের বাপই ছেলো পরিবারের একমাত্র আয়ের লোক। তারে কুপাইয়ে মাইরে ফেলল। এহন ওগের কিডা দেখপে। আল্লাহ যেন হত্যাকারীদের ফাঁসি দেয়।'
মঙ্গলবার সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলছিলেন, নিহত ফেরদৌস শেখের ছোট ভাই হাসান শেখ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলায় নিজ বাড়িতে নিহত হন ফেরদৌস শেখ ও তাদের পক্ষের খলিল শেখ ও তাহাজ্জুদ শেখ। পরিবারের অভিযোগ, সেহরির পর পর বাড়িতে হামলা করে তাদেরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মোল্যা ও তাদের লোকজন।
নিহত তাহাজ্জুদ শেখের স্ত্রী সুমী বেগম বলেন, আমরা সেহরি খায়ে শুয়ে পড়িছি। এরমধ্যি ওরা আইসে কচ্চে, 'আমরা আইনের লোক, উইঠে ধরজা খোলো।' এরপর দরজা খুইলে দেহি আমাগে ঘিরে ফেলিছে। এরপর মারিছে। ও (খায়রুজ্জামান) এট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (সাবেক) হয়ে এসব করবে? আমরা ওর ফাঁসি চাই। আমরা আর সহ্য করতি পারতিছিনে।
এ ঘটনায় হামলায় অভিযুক্ত খায়রুজ্জামান মোল্যা পক্ষের ও একজন আহত হয়ে মারা গেছেন। তার নাম ওসিকুর ফকির। তার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ খলিলদের হামলায় ওসিকুর নিহত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত এই চারজনই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, খলিল ও তার স্ত্রী একসঙ্গে থাকতেন। খলিলের আয়ে দুজনের সংসার চলত। আর তার ছেলে তাহাজ্জুদের সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ৮ মাস। তাহাজ্জুদের আয়ের ওপর নির্ভর ছিল পাঁচ সদস্যের এই সংসার। খলিল ও তাহাজ্জুদের মৃত্যুতে নিঃস্ব হয়ে গেছে এই দুটি পরিবারও।
এ প্রসঙ্গে নিহত ফেরদৌসের ভাই হাসান বলেন, আমার ভাইয়ের মতো খলিল ও তাহাজ্জুদের পরিবারও নিঃস্ব হয়ে গেছে। পরিবারগুলোকে কাজ করে খাওয়ানোর মত কেউ থাকলো না।
অন্যদিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নিহত ওসিকুর ফকিরের ছোট ছোট দুইটি সন্তান রয়েছে। তিনিও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে তার পরিবারটিও পথে বসেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিহত চারজনেরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় যার যার বাড়ি। বিকেলে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা করেনি নিহতদের পরিবার।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রকিবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
মন্তব্য করুন
