


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি, বিএনপি আজ এই পর্য়ায়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।
নির্বাচনী প্রচারণা এবং রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নওগাঁ বাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে শীতে এসে কম্বল দিয়েছি। এই নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনেক অবদান রেখেছে।
তারেক রহমান বলেন, এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি, এতো দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কি হলো? এই ১৭ বছরে উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এই দেশেই থাকবো, কাজেই আমাদেরই এই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
তবে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ৮ জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এরা নির্বাচিত হয়েই এলাকায় কাজ করবে। কাজেই আপনাদের এলাকার দাবি ও সমস্যা যারা দেখবেন তাদেরকে নির্বাচিত করবেন।
তারেক রহমান বলেন, এই জেলা ধানের ভান্ডার, এখানে বছরে তিনটি ধান উৎপাদন হয় যেটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর। আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। সেই জন্য কৃষকদের ভালো রাখতে হবে এবং সুবিধা দিতে হবে।
তিনি বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া ৫ হাজার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। এটা আমি রাজশাহীতে বলেছি, এখানেও বলছি। শুধু ঋণ মওকুফ করবো না, আমরা সকলকে কৃষক কার্ড তুলে দিব। এই কৃষি কার্ড দিয়ে একটা ফসলের সকল কিছু তুলে নিতে পারবে কৃষক, যাতে ওই কৃষকের অর্থনৈতিক ভীত শক্ত হয়। এবং প্রাকৃতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারে।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমানে এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু হিমাগার না থাকার অনেক ক্ষেত্রে আম পঁচে যায়। এই জন্য রেললাইন সংযোগের দিকে নজর দিব। যাতে স্বল্প মূল্যে ও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আমা পাঠাতে পারে কৃষক।
তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে মেয়েদের পড়াশোনা পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিব। আর ছেলেদের খেলার জন্য আলাদা ভাবে চিন্তা করছি। শুধু পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কেন? খেলোয়াড় হয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক আয় করা যায়। গ্রামের মা ও বাচ্চাদের জন্য হেলথ কেয়ার দিব। যেন ঘরে বসেই তার ছোট ছোট অসুখ ঠিক করতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ছেলেদের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি অঞ্চল গড়ে তুলবো। আর এই কাজে যারা এগিয়ে আসবে, কলকারখানা গড়ে তুলবে তাদেরকে স্বল্প মূল্যে ঋণের ব্যবস্থা করবো। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে। যারা আইটিতে দক্ষ তাদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করবো। সর্বোপরি সকল বেকার ও শিক্ষিতদের জন্য বিভিন্ন ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ ও মাদরাসায় যারা খতিব, মোয়াজ্জেম আছেন তাদের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মানুষকেও দেখবো।
উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের দাবি আমি পূরণ করবো, কিন্তু আপনারা কি করবেন, আপনারা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হৈ হুল্লোড় করে হাত তালি দিলে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার সামনে তাফালিং করে লাভ নেই। ১২ তারিখ ভোটের দিন দেখা যাবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখনও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। এক পক্ষ চলে গেছে, আরেক পক্ষ আছে। এই এক পক্ষ পালিয়ে যাওয়াদের সাথে ছিল। তারা বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাই আপনারা সতর্ক থাকবেন।
তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকবেন। এরপর ভোট শুরু হলে ভোট দিবেন। তবে খেয়াল রাখবেন লাইন নড়ে না কেন এই বিষয়ে, থাকবেন সতর্ক।
১৭ বছর পর দেশে এসে শুনছি গত ১৬ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঢাকায় কিছু মেঘা প্রকল্প হয়েছে আর মেঘা প্রকল্প মানেই মেঘা দুর্নিতী। তবে আমরা শহরের পাশাপাশি গ্রামের জন্য উন্নয়ন করতে চাই। কারণ গ্রামের উন্নয়ন হলেই দেশ উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, সকল শহীদসহ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ত্যাগের একটা মূল্য দিতে হবে। কারণ এই জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলনের কারণে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এসেছে। ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেছে। এখন পরিবর্তন করতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসমুদ্রের নির্বাচনী এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলার বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কৃষি প্রধান জেলা হিসেবে নওগাঁকে আরও এগিয়ে নিতে বিএনপির প্রার্থীরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণাগার, সান্তাহার থেকে নওগাঁ হয়ে পার্শ্ববর্তী চাপাইনবয়াবগঞ্জ জেলার সাথে রেল যোগাযোগ ও স্ব স্ব উপজেলা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তুলে ধরেন অবহেলিত বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের কথা। সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দাবি তুলে ধরা যানজটের শহর নওগাঁয় চার লেন সড়কের বাস্তবায়ন এবং এ জেলায় গ্যাস সংযোগের দাবি জানান। সবশেষে উত্তরের এই জেলা ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে সকল প্রার্থী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সবগুলো আসন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন বলেন, যই দল জীবন্ত মানুষকে মেরে ফেলে, যে দল একটা ভোটের জন মানুষকে জান্নাতের টিকেট দিতে চায় সেই দল কখনও ইসলামের দল হতে পারে না। অথচ ৭১ এর পর যখনই এই দল হোচট খেয়েছে তখনই বিএনপির হাত ধরে কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন