

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের দেশ, লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন শিবচরের কয়েকজন যুবক।
এক মাসের ও বেশি সময় ধরে তাদের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার গুলো গভীর উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ডুবে আছে।
নিখোঁজ যুবকদের মধ্যে রয়েছে রোমান ও নিশাত। এছাড়াও শিবচরের আরও বেশ কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা স্হানীয় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
গত ৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট সূত্র নিখোঁজ যুবকদের পরিবারকে জানায় যে, ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। মুহূর্তেই যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে স্বজনদের মাথায়।
নিখোঁজরা জীবিত নাকি মৃত্যু তা এখনও নিশ্চিত নয়।
নিখোঁজ ফারহান খান রোমান (২৪) বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সিরাজ খার ছেলে। আর নিশাত (২২ )বহেরা তলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আবদুল লতিফ মাদবর ও ইউপি সদস্য সাবিনা বেগমের একমাত্র ছেলে।
অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মুন্না ছাড়াও শিবচর পৌর এলাকার আরও ২ যুবক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দালাল কুদ্দুস (বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে) মোবাইলে ভয়েস মেসেজে জানায়, নিশাত-রোমানসহ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী ট্রলারটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছে।
যাত্রীদের বেশির ভাগই সমুদ্রের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন। এমন খবর পাওয়ার পরই সবাই নির্বাক হয়ে যান। শুধু রোমান আর নিশাতই নন, শিবচরের বিভিন্ন এলাকার আরও দুই যুবকের খোঁজও মিলছে না।
নিশাত ও রোমানের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্থানীয় কুদ্দুস দালালের মাধ্যমে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিশাত প্রথমে সৌদি আরব যান। পরে সৌদি-কুয়েত-মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছান।
পুরো প্রক্রিয়ায় ইতালি যেতে ২২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। অন্যদিকে রোমান সৌদি আরবে আগে থেকেই থাকতেন এবং সেখান থেকে একই ভাবে লিবিয়া পৌঁছায়।
নিখোঁজ রোমান ও নিশাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের গগন বিদারী আহাজারি, সবাই যেন শোকে মুজ্যমান। বাড়িতে আত্মীয় স্বজন ও আশপাশের লোকজনে পরিপূর্ণ। কোলে ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে নির্বাক বসে আছেন নিশাতের স্ত্রী মেহেনাজ।
নিশাতের মা আহাজারি করতে করতে বলেন, কুদ্দুস দালাল আমার ছেলেকে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে ১২ নভেম্বর ‘গেম’-এ দেয়। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাইনি।
হঠাৎ করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করল। আমরা বললাম,আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে দাও। কিন্তু তারা কোনোভাবেই যোগাযোগ করায়নি। প্রায় এক মাস ধরে কোনো খবর নেই। এখন জানাচ্ছে, গেমের ট্রলার সাগরে ডুবে গেছে, বেশিরভাগই নিখোঁজ। জানি না আমার নিশাতের কী হয়েছে? আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।
নিখোঁজ নিশাতের স্ত্রী মেহেনাজ বলেন, লিবিয়ায় গিয়ে ওর মোবাইল দালালের লোকজন নিয়ে নেয়। অন্যের ফোনে বলেছিল ‘ঠিকমতো পৌঁছানোর পর জানাব। এরপর থেকে আর কোনো খবর নেই। বৃহস্পতিবার খবর আসে, গেমের ট্রলার ডুবে গেছে। আমি জানি না, আমার স্বামী বেঁচে আছে কি না।
নিখোঁজ রোমানের বাবা সিরাজ খা বলেন, আমার বাবায় সৌদি আরব থাকত। কুদ্দুস দালাল ফুসলিয়ে, লোভ দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকায় লিবিয়া দিয়ে ইতালি পাঠাবে বলে আমার বাবাকে রাজী করায়। আমরা সব টাকা দিয়েছি। এরপর সৌদি থেকে একইভাবে লিবিয়া নিয়ে নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে ইতালির উদ্দেশ্যে গেমে দেয়।
তারপর থেকে আর কোন যোগাযোগ নাই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দালাল কুদ্দুস জানায়, ট্রলার ডুবে গেছে। বেশির ভাগের কোনো খোঁজ নাই। ছেলে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে জানি না।
এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্হানরত দালাল কুদ্দুসের সঙ্গে মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি অনবরত কল কেটে দিয়েছেন।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এই নিখোঁজের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। তবে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন
