সোমবার
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মার ভাঙ্গনে তছনছ বাড়ি, ফারহানার নেই চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় 

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ পিএম
বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ফারহানা
expand
বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ফারহানা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠাল বাড়ী ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে অন্যের জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট টিন শেড ঘরটি যেন দুঃখ আর বেদনার নীরব প্রতিচ্ছবি। সে-ই ঘরেই বাস করছে বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ফারহানা (১২)। মা-বাবার আদরের প্রথম সন্তান হলেও জন্ম থেকেই তার জীবন যেন লড়াইয়ের আরেক নাম।

সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ফারহানা স্পষ্ট করে কথা ও ঠিক মতো হাটতে পারে না। তবুও তার চোখে মুখে অবিশ্বাস্য প্রাণ চাঞ্চল্য। সে পড়তে পারে না, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবহ নিজের অনুভবে আনতে প্রতিদিনই পাশের বিদ্যালয়ের মাঠে যায়। স্কুলের শিশুদের বইয়ের ঘ্রাণ, সকাল বেলার উচ্ছ্বাস ভরা কোলাহল, মাঠের খেলা এ সবই যেন তার কাছে জীবন ছুঁয়ে দেখার ক্ষুদ্রতম প্রয়াস।

ফারহানার মা রেশমা বেগম (৩৫) জানান, চার ছেলেমেয়ের মধ্যে ফারহানা আমার প্রথম সন্তান, ঘর আলো করেই এসেছিল। কিন্তু দারিদ্র্যের কষাঘাতে সে আলো বেশি দিন ধরে রাখা যায়নি। বিধায় তার প্রতি আমাদের আলোর দৃষ্টি আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসে। তার উপর আসে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন। কীর্তিনাশা পদ্মা আমাদের শেষ সস্বল চরজানাজাত ইউনিয়নের বসত বাড়ীটিও গ্রাস করে নেয়। অতঃপর কাঁঠাল বাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গেটে লতিফ বেপারীর কান্দিতে অন্যের জায়গায় অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি ঘর তুলে বসবাস করছি।

তিনি আরও জানান, এত কষ্টের মধ্যে ও ফারহানার বাবা সরোয়ার বেপারী গত চার পাঁচ বছর যাবত সংসারের প্রতি উদাসীন। মাঝে মাঝে ঘরে এলেও শান্তির বদলে অশান্তিই বাড়িয়ে দেয়। আমি মা, মা তো আর সন্তানদের প্রতি উদাসীন থাকতে পারে না। বিধায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তাতেই দিন চলে যায়। বাকী ভরসা আল্লাহ ও প্রতিবেশীদের সহানুভূতি।

ফারহানার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দৈনন্দিন চার ছেলেমেয়ের ভরনপোষণ করাই তো কষ্টসাধ্য। তার উপর চিকিৎসার টাকা পাব কোথায়? প্রতিবেশীর ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বললে ও মোমবাতির আলোই আমাদের ভরসা। এত কষ্টের মধ্যে ও সরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা পাই না। কয়েক দিন আগে মেয়ের প্রতিবন্ধী কোটায় একটি কার্ড পেয়েছি মাত্র।

প্রতিবেশী এলাচি আক্তার বলেন, কয়েক বছর আগে ও ফারহানার অবস্থা ভালো ছিল। তবে দিন দিন অবস্থা খারাপ হচ্ছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা ও করাতে পারছে না। ঠিক মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো তার অবস্থার উন্নতি হতো। তাই এই অসহায় পরিবারের প্রতি সকল প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।

পাশের ১১৪ নং ওমর বেপারী কান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বাবুল মিয়া বলেন, ফারহানা একটি অসহায় পরিবারের বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। অতি কষ্টে প্রতিনিয়তই আমাদের স্কুলে আসে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা, লেখাপড়া ইত্যাদি উপভোগ করে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তার পরিবার নদী ভাঙ্গনের ক্ষত বুকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করলেও দারিদ্র্যের ভাঙ্গন থেকে বের হতে পারেনি। তাই তাদের চিকিৎসা, বাসস্থানের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম. ইবনে মিজান বলেন, এ ধরনের অসহায় পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত। তাই আমরা তাদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X