

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়েছে। তারাই সকল হাট-ঘাট খাবে। সে যে দলেরই হোক।
সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার এমনই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রিপন হোসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা-পান্টি সড়কের চৌরঙ্গী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ভাইরাল সেই ভিডিও বক্তব্যে রিপন হোসেনকে বলতে শোনা যায়,"রাজপথে আমরা এই হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরানোর জন্য সংসারের সমস্ত কাজ ফেলে রেখে ও জীবনকে বিসর্জন দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আজকে যে ছেলেগুলো এখানে উপস্থিত হয়েছে তারাই অনেক দিন, অনেক রাত না খেয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছে। তখন কিন্তু এই সকল ব্যবসায়ীরা কেউ ২০টি টাকা দেন নাই। আর আপনারা সকল সুবিধা ভোগ করার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। লজ্জা করা দরকার আপনাদের। আজকে এই আসনে মেহেদী আহমেদ রুমীকে (ধানের শীষের প্রার্থী) আপনারই ফেল করায় ছিলেন।"
তিনি আরও বলেন,"এই বাজারখেকো যেসব দালালেরা আছেন, আপনারা খুব সহজেই এই ছেলেদের অধিকারের জায়গা দখল করবেন না। আর যদি করেন এই ক্ষুধার্ত ছেলেরা আজ যদি বাজার, ঘাট না খেতে পারে, সরকারে লিজ দিবে। এ সকল ছাত্ররা বাপের কাছ থেকে ভিক্ষা করে নিয়ে এসে হলেও বাজার লিজ নেবে। কিন্তু যখন আপনি ১০ টাকার জিনিস ৩০ টাকা দিয়ে কিনবেন সেই সামর্থ্য এদের নেই (ছাত্র)। এরা খেতেও পারবে না। কিন্তু এই অধিকার আপনাদের কে দেছে? আপনারা যদি দেশের জন্য কাজ করতেন, আন্দোলন সংগ্রাম করতেন, রাজপথে যেতেন, বুঝতাম, আপনারা পাবেন।"
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন আরও বলেন,"আপনাদের বাদ দিয়ে এ সকল ছেলেরা খেতে চায়নি। আপনাদের সাথে করে রেখে খুব অল্প ইজারা দিয়ে এরা আপাতত জীবনটা বাঁচাবে। কেউ যদি টাকার গরমে বাজার ডেকেও (ইজারা) আনেন। ওই বাজারে ঢুকলে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে রিপন হোসেন বলেন,"সম্প্রতি চৌরঙ্গী সাপ্তাহিক পেঁয়াজ হাটের ইজারার দরপত্রের আহ্বান করেছে প্রশাসন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী টাকার গরমে ৫ লাখ টাকার হাট ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিতে চাচ্ছে। ফলে ছাত্র, যুবসমাজ ইজারা নিতে পারবে না। ওই সব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে অন্যায় কিছু করা হয়নি।"
এ ব্যাপারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ বলেন,"কেউ টেন্ডারে হাট-ঘাটের ইজারা পেলে তারা এটা ভোগ করবে। সে যে দলেরই হোক। রিপনের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার বক্তব্য আমি এখনও শুনিনি। কেউ যদি এমন বক্তব্য দেন, এটা তার ব্যক্তিগত কথা। বিএনপি এসব কখনও সমর্থন করেনি।"
মন্তব্য করুন
