শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১৪৪ দিন পর সচল চিলমারী-রৌমারী ফেরি চলাচল 

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১০:১১ পিএম
সচল চিলমারী-রৌমারী ফেরি চলাচল 
expand
সচল চিলমারী-রৌমারী ফেরি চলাচল 

দীর্ঘ ১৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি ও নৌপথে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফেরি চলাচল শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তি ফিরেছে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের মাঝে।

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. নুরন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নৌবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরি চিলমারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিও এ নৌরুটে যুক্ত করা হয়। ফেরি চলাচল চালু হওয়ায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে আবারও গতি ফিরেছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও জনদাবির মুখে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। চালুর পর থেকেই কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য সংকট, চর জেগে ওঠা এবং পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন সময় ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ফেরি চলাচলের পথ অনেকটা সহজ হয়েছে। এতে ফেরি চলাচলের দূরত্ব প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার কমে এসেছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচলের পরিকল্পনাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফেরি চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা। ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন,‘দীর্ঘদিন ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে। সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফেরি চালু হওয়ায় এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।’

ট্রাকচালক শাহিন মিয়া বলেন, ‘ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে অনেক সময় ও জ্বালানি খরচ হতো। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এখন ফেরি চালু হওয়ায় কম সময়ে সহজেই গাড়ি পারাপার করা যাবে।’

স্থানীয় শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন,‘ রৌমারী-চিলমারী ফেরি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও সচল হলো। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। আমরা চাই, ফেরি চলাচল যেন স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকে।’

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ বলেন, ‘নৌপথে পানি বৃদ্ধি ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপদ পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। বর্তমানে ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দিয়ে নিয়মিত পারাপার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়লে ফেরি চলাচল আরও জোরদার করা হবে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন