

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাওরা কান্দি গ্রামে মসজিদের তহবিলের হিসাব ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ইফতারের মুহূর্তে এ সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি টেঁটা বিদ্ধসহ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সাবেক দুই ইউপি সদস্য সিরাজু উদ্দিন ও তাইতুলের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি থমথমে ছিল।
এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে ইফতারের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটা, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে নারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি আহত হন। পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- তোতাই মিয়ার ছেলে জাবেদ মিয়া (২৫), ইসমান আলীর ছেলে সিরি ইসলাম (৪০), মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল আমিন (৪৫), আ. সাহিদের ছেলে রুহন আমিন (৩২), ইনতাজ উল্লাহর স্ত্রী রুজিনা খাতুন (৩৫), জিলু মিয়ার ছেলে সুজাত (৩৫), আ. গফুর মিয়ার ছেলে রুপ মিয়া (৩০), লাল মিয়ার ছেলে আ. খালেক (৫৫), আ. মালেখ মিয়ার ছেলে সাবু মিয়া (৩০), আ. মানিক মিয়ার ছেলে ফনস মিয়া (২৫), শাও মিয়ার ছেলে হুমায়ন (১৮), আ. গফুর মিয়ার ছেলে বক্তর মিয়া (৩৫), আ. রহমান মিয়ার ছেলে তৌহিছুন ইসলাম (২২), শওদাগর মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া (২২), ওসমান গণির ছেলে নাজমুল (২৫), সামসুল মিয়ার ছেলে তানভির হাসান (১৬)সহ আরও অনেকে।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, “আমি শুনেছি ঝগড়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। আশা করছি নতুন করে আর কোনো ঝামেলা হবে না।”
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
