

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ছাড়াই প্রায় দুইযুগ আগের একটি পুরোনো সেতু ভেঙে তার ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পক্ষ থেকে শোকজের পর সে সব ইট ও রড় ইউনিয়ন পরিষদে ফেরত দিয়েছেন তিনি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ওই স্থানে এক সপ্তাহের নতুন ব্রিজের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জানা যায়, প্রায় ২ যুগ আগে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর-রাজনীতির বাজার রাস্তায় একটি ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় সেতুটি দিয়ে দিন-রাত চলাচল করেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। একই সাথে চলাচল করতো মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা যানবাহন। কিন্তু চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বা নিলাম না ডেকেই সেতুটি ভেঙে তার ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে যান। ফলে বিভিন্ন যানবাহন পারাপার নিয়ে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এ নিয়ে গত ২ জানুয়ারি কালবেলা অনলাইনে 'ব্রিজ ভেঙে বাড়িতে নিয়ে গেলেন চেয়ারম্যান' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোকজ করেন ওই চেয়ারম্যানকে। শোকজের পর ওই সব ইট ও রড আবার ইউনিয়ন পরিষদে ফেরত দেন তিনি।
পরে গত বুধবার (৪ জানুয়ারি) ওই ব্রিজের নিলাম যোগ্য অবকাঠামো বিক্রির জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি। ওই দিনেই কমিটির সদস্যরা উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করলে তা ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।
স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের কথা বলে ভালো ব্রিজ ভেঙে ফেলায় এখন রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছি আমরা। আমরা এর তদন্ত চাই এবং দ্রুত নতুন ব্রিজ চাই। তা না হলে বৈশাখ মাসের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে আমরা তো বিপদে পড়ব।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘কী বলি ভাই, সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। সেদিকে কিছু নেই। আমি তো রাতের বেলায় এটা করি নাই। এটা সবাই জানে। যাতে না হারায় সে জন্য বাড়িতে এনে রেখেছিলাম। স্যার এখন পরিষদে রাখতে বলেছেন। সে কারণে মালামালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পাঠিয়েছি।’
জনদুর্ভোগ এগাতে কবে নাগাদ নতুন ব্রিজের কাজ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, 'পুরোনো ব্রিজটির সব অবকাঠামো নিলামে দেওয়া হয়েছে। যিনি নিলামে ক্রয় করেছেন তাকে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো অবকাঠামো সরিয়ে নিতে বলেছি। আশাকরি, নতুন ব্রিজের কাজ এক সপ্তাহ পরেই শুরু হবে।'
মন্তব্য করুন
