বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার ফর ওমেন (ইসিডব্লিউ)’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। ঋণ নিতে এসে অফিসে তালা ঝুলতে দেখে বিপাকে পড়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের গ্রাহক মো. মুস্তাকিম হাওলাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক মহিলাসহ চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ইসিডব্লিউ এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া এলাকার সৌদি প্রবাসী শিহাব বেপারীর তিনতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নেন। এরপর তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক সংগ্রহ করেন। ঋণ পাওয়ার আগে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় হিসেবে জমা নেন তারা। গ্রাহকদের বুধবার (১২ আগস্ট) ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ঋণ নিতে এসে গ্রাহকেরা দেখতে পান অফিসে তালা ঝুলছে। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা সদরপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই অফিসের সামনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১৫-১৬ জন নারী-পুরুষ দাড়িয়ে আছেন। তারা প্রত্যেকে ঋণ নেওয়ার জন্য এসেছিলেন। তারা জানান, তাদের কাছ থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয় হিসেবে বিভন্ন অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছ।

ঢেউখালী ইউনিয়নের দুর্জয় খার ডাঙ্গী গ্রামের গ্রাহক জোসনা বেগম (৩৫) বলেন, আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। বুধবার আমাকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা দেওয়ার জন্য আমি ধার করে সঞ্চয়ের টাকা জোগাড় করেছিলাম। ভাষাণচর ইউনিয়নের হাওলাদার ডাঙ্গী গ্রামের সাহিনুর বেগম (৩০) বলেন, আমি ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এখন অফিস বন্ধ। ঢেউখালী ইউনিয়নের দশ হাজার গ্রামের মরিয়ম বেগম (২৮) বলেন, আমি ৫২ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। ঋণ নিতে এসে দেখি অফিসে তালা।

এদিকে ভবনের মালিক শিহাব বেপারীর স্ত্রী জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক মহিলাসহ পাঁচজন নিজেদের ইসিডব্লিউ এনজিওর লোক পরিচয় দিয়ে ভবনের নিচতলা ভাড়া নিতে আসেন। তিনি ভাড়া দিতে সম্মতি জানিয়ে তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান। তখন তারা জানান, শুক্রবার ঢাকা থেকে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে অফিস উদ্বোধন করবেন। ওই সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অগ্রিম ভাড়ার টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু এর আগেই সকালে দেখতে পান, তারা অফিসে তালা দিয়ে চলে গেছেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, এ ঘটনায় একজন গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন