

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাত্র ২০ হাজার টাকা জামানত দিলেই মিলবে দুই লাখ- এই স্বপ্ন দেখিয়ে কক্সবাজার শহরের শতাধিক নারীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে 'সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা' নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে 'জরুরি সভা আছে' বলে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার আর ফেরেননি। অফিসে ঝুলছে তালা, বন্ধ তাদের মোবাইল ফোন।
ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পৌরসভার সাবমেরিন কেবল এলাকার চৌধুরী পাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন আবদুর রহমান ও নুরুল আমিন নামের দুই ব্যক্তি। সেখানে 'সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কক্সবাজার সদর শাখা' নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। কিছু টেবিল-চেয়ার নিয়ে গড়ে তোলা হয় সাজানো অফিস।
এরপর শুরু হয় আসল কাজ। সকালে বেরিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে নারীদের সঙ্গে কথা বলতেন তারা। প্রলোভন একটাই- মাত্র ২০ হাজার টাকা জামানত দিলে দুই বছরের ২৪ কিস্তিতে পাওয়া যাবে দুই লাখ টাকা। প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কলাতলী, খুরুশকুল, লিংক রোড, পিএমখালিসহ পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে এই জাল।
মাত্র তিন দিনের মধ্যে শতাধিক নারীর কাছ থেকে জামানত হিসেবে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। অনেকে গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন, কেউ ভেঙেছেন জমানো টাকার সংসার, কেউবা বিক্রি করেছেন গায়ের গহনা।
সদরের খুরুশকুল ডেইলপাড়ার মর্জিনা আক্তার বলেন, 'আমাকে প্রতিনিধি বানানোর কথা বলে পাঁচজন নারীর কাছ থেকে ৬২ হাজার টাকা সংগ্রহ করিয়েছে। ওই টাকা নুরুল আমিনের হাতে দিয়েছি। শুধু খুরুশকুলের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই ১২ জনের কাছ থেকে নিয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা।'
পিএমখালি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুলবুল আক্তার জানান, সাত কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। ফরমে সই নিয়ে বলল দুই লাখ পাবেন। কিন্তু এখন অফিসে তালা।
একই ওয়ার্ডের হোসনে আরা বেগম বলেন, 'মঙ্গলবারই আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে ফোন বন্ধ। অফিসে গিয়ে দেখলাম দরজায় তালা।'
লিংক রোড এলাকার ঝিনুক, রুমানা, আফরোজা ও হোসনে আরাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, মাত্র তিন দিনেই অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
বাসার মালিক মোশাররফ হায়দার জানান, বুধবার (১৩ মে) চুক্তিপত্র সম্পাদনের কথা ছিল। বাসা ভাড়া ও টেবিল-চেয়ার- সবই ছিল বাকিতে। মঙ্গলবার থেকে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অফিস-সন্ধানী নারীরা এসে ভিড় করেন তার বাসার সামনে।
পরে তিনি সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে আবদুর রহমানের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এবং নুরুল আমিনের ঠিকানা গাজীপুর।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শেখ মুহাম্মাদ আলী বলেন, খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।