

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রতিবছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে চার হাজার মানুষের মৃত্যুকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র হয়তো তাদের স্বজন ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চেক বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় শেখ রবিউল আলম বলেন, আনফিট যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং জনসচেতনতার অভাব—এই তিন কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সরকার একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না; পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মন্ত্রী জানান, গত ঈদের আগে একটি বড় দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতেই আমি এখানে এসেছি। এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়।’
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস, ওভারপাস নির্মাণ এবং ইউটার্ন সুবিধা বাড়ালে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
তাঁর মতে, বর্তমানে চার লেনের এই সড়কে যে পরিমাণ গাড়ির চাপ, তা সামলাতে ১০ লেনের সড়ক প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে ৮ লেনের মূল সড়ক ও ২ লেনের সার্ভিস লেনসহ সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসনে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত হলে সেই পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার তা নিয়ে ভাবছে। শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায় কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবারের মধ্যে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহত ৩৩ জনের মধ্যে ৫৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এর আগে ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা (দাউদকান্দি টোল প্লাজা) পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি টোল প্লাজার কার্যক্রম তদারকি করেন এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, মাত্র তিন দিনে দেড় কোটি মানুষ ও এক কোটি কোরবানিযোগ্য পশুকে নির্বিঘ্নে পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই সহযোগিতা করলে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আশা করা যায়, এবারের ঈদযাত্রা নিশ্চিন্তে সম্পন্ন হবে।
এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।