রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ফেরা হলো না, কুমিল্লায় খুন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট
expand
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট

চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে রাতের আঁধারে বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেও জানিয়েছিলেন—কুমিল্লা শহরে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।

ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের মোবাইল ফোন, ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

রোববার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কফিনবন্দী মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে। সেখানে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জড়িয়ে ধরে বিলাপ করেন বাবা সুশীল বৈরাগী। তার কণ্ঠে ছিল অসহায় আর্তি—ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল, আজ তাকে নিথর অবস্থায় নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার বলেন, আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার পর থেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিবারের পাশে থাকবে কাস্টমস বিভাগ।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন বুলেট বৈরাগী। গত ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন।

নিহতের মা জানান, রাত ২টা ২৫ মিনিটে সর্বশেষ ফোন করে ছেলে জানায়, সে টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছে। এরপর অজ্ঞাত কয়েকজন তার ফোন ব্যবহার করে কথা বলে। তারপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সকালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। কিছু সময়ের মধ্যেই আসে মরদেহ উদ্ধারের খবর।

ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মামলা হয়েছে। পুলিশসহ র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই একসঙ্গে কাজ করছে। দ্রুত রহস্য উদ্‌ঘাটনের আশা করছি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন